Previous
Next

সর্বশেষ


Sunday, November 1

গবেষণা সংকলন ‘চারণধ্বনি’র প্রকাশনা উৎসবে গুণিজনদের মিলনমেলা

গবেষণা সংকলন ‘চারণধ্বনি’র প্রকাশনা উৎসবে গুণিজনদের মিলনমেলা


নিজস্ব প্রতিবেদক :

মসজিদকেন্দ্রিক ধর্মীয় শিক্ষার প্রাথমিক স্তম্ভ মক্তব। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে শিশুদের কোরআন শিক্ষা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিকতার পাঠ দিয়ে আসছে এই প্রতিষ্ঠান। অথচ এই শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জীবনমান ও আর্থিক বাস্তবতা অনেক ক্ষেত্রেই রয়ে গেছে উপেক্ষিত। কানাইঘাট উপজেলার মসজিদের ইমাম ও মক্তব শিক্ষার বর্তমান অবস্থা নিয়ে পরিচালিত এক গবেষণায় উঠে এসেছে তাঁদের আর্থিক দুরবস্থার চিত্র।

‘কানাইঘাট উপজেলার মসজিদের ইমাম ও মক্তব শিক্ষার বর্তমান অবস্থা: একটি সমীক্ষা’ শীর্ষক গবেষণা এবং গবেষণাসহ বিভিন্ন লেখার সংকলন ‘চারণধ্বনি’র প্রকাশনা উৎসবে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। গতকাল শনিবার রাতে সিলেট নগরের একটি অভিজাত হোটেলের সম্মেলন কক্ষে কানাইঘাট গণশিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন আয়োজিত এ প্রকাশনা উৎসবে কানাইঘাটের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে শিক্ষা, ধর্ম, সমাজসেবা, রাজনীতি ও প্রবাসী কমিউনিটির প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে যেন বসেছিল গুণিজনদের মিলনমেলা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মোহাম্মদ আবুল হাসান বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে এবং ধর্মীয় অনুশাসন টিকিয়ে রাখতে প্রথাগত মক্তব শিক্ষাকে পুনরুজ্জীবিত করতে হবে। একই সঙ্গে মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সমাজের সম্মানজনক বেতন এবং সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমান সমাজ থেকে মক্তব শিক্ষা প্রায় বিলুপ্তির পথে। এর ফলে সামগ্রিক নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষায় গড়ে তুলতে মক্তব শিক্ষার প্রসারে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। 

গতকাল শনিবার রাতে সিলেট নগরের একটি অভিজাত হোটেলের সম্মেলনকক্ষে কানাইঘাট গণশিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘কানাইঘাট উপজেলার মসজিদের ইমাম ও মক্তব শিক্ষার বর্তমান অবস্থা: একটি সমীক্ষা’ শীর্ষক গবেষণা এবং গবেষণাসহ বিভিন্ন লেখার সংকলন ‘চারণধ্বনি’র প্রকাশনা উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

মসজিদের ইমাম ও খতিবদের সম্মানজনক সম্মানী এবং সামাজিক মর্যাদার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায় এমপি আবুল হাসানের বক্তব্যে। তিনি বলেন,  সমাজে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করলেও অনেক ইমাম অত্যন্ত অল্প বেতনে জীবনযাপন করছেন। গবেষণায় কোনো কোনো ইমামের মাসিক বেতন সাড়ে ছয় হাজার টাকা পর্যন্ত পাওয়া গেছে, যা বর্তমান বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ বৈষম্যের কারণে মেধাবী ও যোগ্য ব্যক্তিরা এ পেশায় আসতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। তাই ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানজনক বেতন ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা জরুরি।

পিএইচডি গবেষক ও সাংবাদিক এহসানুল হক জসীমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন হাফিজ আজহারুল ইসলাম উসামা। মরমি কবি ইব্রাহিম তশনার ‘তুমি গগনের শশী’ গানটি পরিবেশন করেন আলী হায়দার। এ সময় গবেষণার ফলাফল বড় পর্দায় উপস্থাপন করা হয়। 

অনুষ্ঠানে কানাইঘাটের বিশিষ্টজন, শিক্ষাবিদ, আলেম, জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ ও লেখকদের অংশগ্রহণে এক মিলনমেলার সৃষ্টি হয়। বক্তব্যে জেলা ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা এহসানুল হক বলেন, ফুরকানিয়া মক্তব নিয়ে গবেষণাগ্রন্থটি ভবিষ্যতে রেফারেন্স হিসেবে কাজ করবে।

ডা. আবুল কাহের বলেন, মসজিদভিত্তিক মক্তবে শিশুদের যে শিক্ষা দেওয়া হয়, বাসাবাড়িতে গৃহশিক্ষক রেখে তা পুরোপুরি পাওয়া যায় না। এ কারণে সমাজে নৈতিকতার অবক্ষয় বাড়ছে।

জেলা ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা এহসানুল হক বলেন, ফুরকানিয়া মক্তব নিয়ে গবেষণাগ্রন্থটি ভবিষ্যতে রেফারেন্স হিসেবে কাজ করবে।

কানাইঘাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশীদ বলেন, মক্তব থেকেই সামগ্রিক শিক্ষার সূচনা হয়। কিন্তু আমরা এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে গেছি। ‘চারণধ্বনি’তে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। ইমামদের মূল্যায়নে সরকার কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

জেলা বিএনপির সহসভাপতি মাহবুবুর রব চৌধুরী ফয়সল বলেন, এ আয়োজন কানাইঘাটের গুণীজনদের একত্র করেছে। এ জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানাই। ইমাম-মুয়াজ্জিনরা যে পরিমাণ বেতন পান, তা অত্যন্ত কম। অথচ আমরা হোটেল-রেস্তোরাঁয় বসে চা পান করতেও অনেক টাকা খরচ করি। ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানজনক বেতন নির্ধারণের পাশাপাশি সন্তানদের নৈতিক অবক্ষয় থেকে রক্ষায় মক্তব চালু রাখতে সবাইকে সচেষ্ট হতে হবে।

কানাইঘাট উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, ইমামদের বেতন বাড়াতে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের এগিয়ে আসতে হবে।

দক্ষিণ সুরমা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ইফতেখার আলম বলেন, সমাজে সত্যিকার পরিবর্তন আনতে হলে ঘরে থাকা নারীদেরও এ উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে।

ফুলবাড়ী মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা জাকির হোসেন বলেন, কানাইঘাট গণশিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন শেকড়ের সন্ধানে কাজ করছে। মসজিদভিত্তিক শিক্ষা মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শিক্ষার ধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত। মৃতপ্রায় এ শিক্ষাব্যবস্থাকে আবারও এগিয়ে নিতে হবে।

শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা পাঠানটুলার উপাধ্যক্ষ মাওলানা ফয়জুল্লাহ বাহার বলেন, মসজিদ ইসলামী সভ্যতার বুনিয়াদি কেন্দ্র। মসজিদকেন্দ্রিক মক্তব ইসলামী শিক্ষার অন্যতম কেন্দ্র এবং মূল্যবোধ চর্চার প্রাথমিক ভিত্তি। মক্তব ব্যবস্থা চালু থাকলে সমাজ আরও সুন্দর ও বাসযোগ্য হবে। তাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে মক্তব সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখতে হবে।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আ. ফ. ম. জাকারিয়া বলেন, মক্তব শিক্ষা প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাব্যবস্থা। ব্রিটিশরা মানুষকে মক্তব থেকে বিমুখ করতে বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করেছিল। এখন সম্মিলিত উদ্যোগে মক্তবকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শক্তিশালী করতে হবে এবং শিশুদের মক্তবমুখী করতে হবে।

একই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফজলে এলাহি ফয়সাল বলেন, এ অঞ্চলে ইসলামী সংস্কৃতি দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে। ইমামরা আমাদের নেতা, কিন্তু তাঁদের আমরা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করছি কি না, তা ভেবে দেখা দরকার। তাঁদের বেতনের ক্ষেত্রে অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে। ইমামদের সম্মানী নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে চিন্তা করতে হবে। মক্তব শিক্ষা ছাড়া ঈমানি সংস্কৃতি গড়ে ওঠে না।

কবি কালাম আজাদ বলেন, মক্তব শিক্ষাই মানুষ গঠনের মূল উৎস। মক্তব শিক্ষা হারিয়ে গেলে ইসলামী শিক্ষার ভিত্তিও দুর্বল হয়ে পড়বে। এ উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানান।

প্রফেসর ডা. শিব্বির আহমদ শিবলি বলেন, বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে ইমাম ও মক্তব শিক্ষার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হয়েছে। এ উদ্যোগের জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানাই। যাঁদের এ বিষয়ে কাজ করার কথা ছিল, তাঁরা যথাযথভাবে কাজ করছেন না, যা দুঃখজনক। মক্তবের মাধ্যমেই ইসলামী শিক্ষার পুনর্জাগরণ ঘটেছিল।

সিলেট আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ অধ্যাপক মাওলানা মাহমুদুল হাসান বলেন, মক্তব শিক্ষার ত্রুটিগুলো দূর করে তাওহিদভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে সম্মিলিতভাবে চেষ্টা করতে হবে। শিশুদের সঠিকভাবে পবিত্র কোরআন শিক্ষা দেওয়ার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে কানাইঘাট গণশিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের সহসভাপতি ও অনুষ্ঠান বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যসচিব সৈয়দ আব্দুল মালিক বলেন, গবেষণা করতে গিয়ে মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের বেতনের যে চিত্র পাওয়া গেছে, তা অত্যন্ত হতাশাজনক। সামান্য বেতনে তাঁরা কষ্টের মধ্যে দিনাতিপাত করছেন। বিষয়টি নিয়ে সমাজের সবাইকে ভাবতে হবে।

লেখকদের পক্ষ থেকে বক্তব্যে শিক্ষক জালাল উদ্দিন বলেন, এ অনুষ্ঠানে গুণীজনদের মিলনমেলা বসেছে। মক্তব শিক্ষাই ছিল মূল শিক্ষা। কিন্তু বর্তমানে সেই শিক্ষা হারিয়ে যাওয়ায় সমাজে অবক্ষয় দেখা দিচ্ছে।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সিলেট পাইলট স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক হাফিজ মো. মাশহুদ চৌধুরী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম সিলেট জেলার সহসভাপতি মাওলানা নূর আহমদ কাসেমী, সৌদি প্রবাসীদের পক্ষ থেকে কমিউনিটি নেতা ওয়েস আহমদ, দক্ষিণ বাণিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লোকমান উদ্দিন, কানাইঘাট উন্নয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সরওয়ার ফারুকী, উপজেলা জামায়াতের আমির কামাল উদ্দিন, লেখক মাওলানা মাহবুব সিরাজী, রাজাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা শামসুল ইসলাম, জেলা বারের জ্যেষ্ঠ সদস্য অ্যাডভোকেট আখলাকুল আম্বিয়া, মুন্সিগঞ্জের হরগঙ্গা সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক আসাদ উদ্দিন, শিক্ষক নেতা মোহাম্মদ এখলাছে এলাহি, শিক্ষক শহিদুল ইসলাম, কানাইঘাট সমিতি সিলেট মহানগরের সেক্রেটারি জাকারিয়া এবং ঝিংগাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাস্টার আবু বকর প্রমুখ।





Thursday, October 29

কানাইঘাটে নজরুল বর্ষ উদযাপন, বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ

কানাইঘাটে নজরুল বর্ষ উদযাপন, বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ


নিজস্ব প্রতিবেদক :

সিলেটের কানাইঘাটে নজরুল বর্ষের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরুষ্কার ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্টানের আয়োজন করা হয়।

নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া ফেরদৌসের সভাপতিত্বে ও মাষ্টার জাহিদ হোসেন রাহিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে নজরুল বর্ষের গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন কানাইঘাট সরকারী কলেজের রাষ্ট্র বিজ্ঞানের বিভাগীয় প্রধান সহকারী অধ্যাপক ফরিদ আহমদ, কানাইঘাট পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা তারবিন্দু রায়, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী মজুমদার, পৌর বিএনপির সভাপতি নুরুল হোসেন বুলবুল, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাজ উদ্দিন সাজু, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, কানাইঘাট মনসুরিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ খলিলুর রহমান, কানাইঘাট সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিপালী বিশ^াস, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন, কানাইঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. নাফিসা আনজুম হলি, কানাইঘাট প্রেসক্লাবের সভাপতি নিজাম উদ্দিন, উপজেলা জাসাসের সভাপতি আমিনুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক কলিম উল্লাহ এবং নজরুল বর্ষের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে বিজয়ী শিক্ষার্থীরা। উপজেলা পর্যায়ে নজরুল বর্ষের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করেন কানাইঘাটের বিভিন্ন প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কলেজ ও মাদ্রাসার কয়েক শত শিক্ষার্থীরা। তাদের মধ্যে বিভিন্ন বিভাগে বিজয়ী ১২৯জন শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার হিসেবে সম্মাননা স্বারক ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়। এছাড়াও যারা জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে সুযোগ পেয়েছেন তাদের হাতে নগদ অর্থ তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া ফেরদৌস। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দপ্তরের সরকারী কর্মকর্তাবৃন্দ শিক্ষা প্রতিষ্টানের শিক্ষকবৃন্দ ও সুধীজন এবং শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে বক্তারা বলেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে সম্মান জানিয়ে তার শততম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় ভাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বছরকে নজরুল বর্ষ ঘোষণা করেছেন। এর মধ্যদিয়ে আমাদের জাতীয় কবিকে যেমন সম্মানীত করা হয়েছে, পাশাপাশি নজরুল বর্ষে শিক্ষার্থীদের অংশ গ্রহণে তার জীবন কর্মের উপর বিভিন্ন প্রতিযোগীতার আয়োজন করায় শিক্ষার্থীরা তাকে ধারণ করে আগামী দিনে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করবেন বলে বক্তারা প্রত্যাশা ব্যাক্ত করেন।    

কানাইঘাটে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সমাবেশ

কানাইঘাটে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সমাবেশ


নিজস্ব প্রতিবেদক :

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সিলেটের কানাইঘাটে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) কানাইঘাট উপজেলা ও পৌর যুবদলের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এ উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে যুবদলের নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে কানাইঘাট পৌর শহরে এসে জড়ো হন।

পরে বিকেল ৪টার দিকে নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি কানাইঘাট বাজারের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বাজার পয়েন্টে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে এক পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।

পথসভায় সঞ্চালনা করেন জেলা যুবদল নেতা ও কানাইঘাট উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আর এ বাবলু। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সাজ উদ্দিন সাজু।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শফিক আহমদ, যুগ্ম আহ্বায়ক দেলওয়ার ইসমাইল, সিলেট জেলা যুবদল নেতা জাহাঙ্গীর হোসেন, সেলিম রনি ও গিয়াস উদ্দিন, কানাইঘাট পৌর যুবদলের আহ্বায়ক মামুন রশিদ মামুন, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শামীম আহমদ বাদল, পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মারুফ আহমেদসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাজ উদ্দিন সাজু বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সংগঠনটি গণতন্ত্র, মানুষের ভোটাধিকার, রাজনৈতিক অধিকার ও জনগণের ন্যায্য দাবি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, যুবসমাজ দেশের অন্যতম চালিকাশক্তি। দেশ ও জাতির কল্যাণে যুবকদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

কর্মসূচিতে যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজন সম্পন্ন হয়।

Saturday, October 24

  ‘ড. মুমিনুল হক অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন রম্য লেখক মাহবুবুর রশিদ

‘ড. মুমিনুল হক অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন রম্য লেখক মাহবুবুর রশিদ


নিজস্ব প্রতিবেদক :

রম্য লেখালেখিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ  ‘ইতিহাসবিদ ড. মুমিনুল হক অ্যাওয়ার্ড’  পেয়েছেন সিলেটের কানাইঘাট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও রম্য লেখক মাহবুবুর রশিদ।

 ২৪ অক্টোবর(শনিবার) বিকেলে সিলেট বিভাগীয় গণগ্রন্থাগার মিলনায়তনে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর হাতে এ সম্মাননা তুলে দেওয়ার কথা থাকলেও পবিত্র উমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে অবস্থান করায় তাঁর পক্ষে পুরস্কার গ্রহণ করেন তাঁর বাবা, কলামিস্ট মহিউদ্দিন।

পুরস্কারপ্রাপ্তির প্রতিক্রিয়ায় মাহবুবুর রশিদ বলেন, “মানুষকে হাসানো অত্যন্ত কঠিন একটি কাজ। হাসি মানুষের মন ভালো রাখার পাশাপাশি সুস্থ জীবনযাপনেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। সেই মানুষকে হাসানোর কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পুরস্কার পাওয়া নিঃসন্দেহে বড় প্রাপ্তি। এ সম্মাননা আমাকে রম্য লেখালেখিতে আরও বেশি অনুপ্রাণিত করবে।” তাঁকে এ সম্মাননার জন্য মনোনীত করায় ‘ইতিহাসবিদ ড. মুমিনুল হক অ্যাওয়ার্ড’-এর আয়োজক ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

মাহবুবুর রশিদের জন্ম সিলেট জেলার কানাইঘাট উপজেলার ৬ নম্বর সদর ইউনিয়নের গোসাইনপুর গ্রামে। তাঁর বাবা কলামিস্ট মো. মহিউদ্দিন এবং মা জাহেদা খানম শিরিন। ২০০৬ সালে সিলেটের প্রাচীনতম সংবাদপত্র দৈনিক যুগভেরীর কানাইঘাট উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে সাংবাদিকতা শুরু করেন তিনি। এরপর থেকে সাংবাদিকতার পাশাপাশি জাতীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন পত্রিকায় নিয়মিত রম্য লেখালেখির মাধ্যমে পাঠকমহলে পরিচিতি অর্জন করেছেন।

লেখালেখি ও সাংবাদিকতার পাশাপাশি মাহবুবুর রশিদ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত রয়েছেন। রম্য লেখালেখির মাধ্যমে সমাজের নানা অসংগতি, মানুষের জীবনযাপন ও সমকালীন বিষয়গুলো হাস্যরসের মধ্য দিয়ে তুলে ধরেন তিনি।

Monday, October 12

বাল্যবিয়ে রোধ ও কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিতে সচেতনতার আহ্বান কানাইঘাটে

বাল্যবিয়ে রোধ ও কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিতে সচেতনতার আহ্বান কানাইঘাটে


নিজস্ব প্রতিবেদক :

‘শিশুবিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়’এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সিলেটের কানাইঘাটে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, সরকারি কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী ও জনপ্রতিনিধিরা অংশ নেন। র‌্যালি শেষে উপজেলা সভাকক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) শামছুন্নাহারের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমাইয়া ফেরদৌস।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, কন্যাশিশুর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ এবং সমাজে তাদের যথাযথ মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে। সামাজিক অবক্ষয়ের কারণে কন্যাশিশুরা নানা ধরনের নির্যাতন ও যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে। সম্মিলিত সচেতনতা ও কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে তাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, কন্যাশিশুদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের যোগ্য ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে অভিভাবকদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। শিশু নির্যাতন, বাল্যবিয়ে ও শিশুদের প্রতি সব ধরনের নিপীড়ন প্রতিরোধে তিনি উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের সহযোগিতা নেওয়ার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।

আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. স্বপ্নীল সৌরভ রায়, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ রায়, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. জিলানী, কানাইঘাট প্রেসক্লাবের সভাপতি নিজাম উদ্দিন, বিএনপি নেতা রুহুল আমিনসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

আলোচনা সভা শেষে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া ফেরদৌস।

কানাইঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিরাপত্তা জোরদারে ইউএনওর পরিদর্শন

কানাইঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিরাপত্তা জোরদারে ইউএনওর পরিদর্শন


নিজস্ব প্রতিবেদক : 

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আবাসিক কোয়ার্টার পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমাইয়া ফেরদৌস। এ সময় হাসপাতালের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার, সীমানাপ্রাচীর উঁচু করা এবং রাতের বেলা পুলিশের টহল বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা থানার ওসি (তদন্ত) শহিদুর রহমান, বিএনপি ও খেলাফত মজলিসের নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক কোয়ার্টারসহ বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. স্বপ্নীল সৌরভ রায়, কর্মরত চিকিৎসক ও নার্সদের সঙ্গে কথা বলেন এবং হাসপাতালের বিদ্যমান সমস্যাগুলো সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। চিকিৎসক ও নার্সরা এ সময় হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগের কথা তাঁর কাছে তুলে ধরেন।

পরিদর্শনকালে ইউএনও সুমাইয়া ফেরদৌস হাসপাতালের সীমানাপ্রাচীর আরও উঁচু করা, আবাসিক কোয়ার্টার এলাকায় বহিরাগতদের অনাকাঙ্ক্ষিত প্রবেশ বন্ধ করা এবং রাতের বেলা থানা পুলিশের টহল জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি হাসপাতালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার-ভিডিপি সদস্যদের যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, সম্প্রতি আবাসিক কোয়ার্টার এলাকায় কিছু বখাটে ও মাদকসেবীর অনুপ্রবেশ এবং সেখানে বসবাসরত চিকিৎসক ও নার্সদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় আবাসিক কোয়ার্টারে বসবাসকারী চিকিৎসক ও নার্সদের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই ইউএনও কোয়ার্টার এলাকা পরিদর্শন করেন।

এ সময় কানাইঘাট পৌর বিএনপির সভাপতি নুরুল হোসেন বুলবুল, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, উপজেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি আমানুর রহমান চৌধুরী, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব রাসেল চৌধুরীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা হাসপাতালের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপজেলা ও পৌর বিএনপি, সহযোগী সংগঠন এবং রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হাসপাতালের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের ওপর গুরুত্বারোপ করেন উপস্থিত ব্যক্তিরা।

Sunday, October 11

কানাইঘাটে হেলথ কার্ডের নামে প্রতারণা, দুই ব্যক্তি গ্রেপ্তার

কানাইঘাটে হেলথ কার্ডের নামে প্রতারণা, দুই ব্যক্তি গ্রেপ্তার


নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেটের কানাইঘাটে হেলথ কার্ড ও ভুয়া চুক্তিনামার মাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (১০ অক্টোবর) উপজেলার ৫ নং বড়চতুল ইউনিয়নের চতুল বাজারে হাজী ফখরুল ইসলামের মার্কেট থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। 

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার পানিউমদা গ্রামের আব্দুল মুকিতের ছেলে মোহাম্মদ নোমান মিয়া (২৭) এবং বরিশালের উজিরপুর উপজেলার যুগিহাটি গ্রামের আবুল কালাম হাওলাদারের ছেলে আব্দুল আহাদ হাওলাদার (৩১)। 

পুলিশের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা তাঁদের সহযোগীদের নিয়ে কানাইঘাটের বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নাম ব্যবহার করে হেলথ কার্ড ও লিফলেট বিতরণ করতেন। পাশাপাশি ‘নিরাময় এক্সপ্রেস’ নাম ব্যবহার করে ভুয়া চুক্তিনামা তৈরি করে গোল্ড ও সিলভার মেম্বারশিপ দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা আদায় করতেন। এ ছাড়া বিভিন্ন বেসরকারি চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানের নামে ভুয়া চুক্তিনামা তৈরি করে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণার মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে। 

এ ঘটনায় কানাইঘাট থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে গ্রেপ্তার দুই আসামিকে যথাযথ প্রক্রিয়ায় আদালতে সোপর্দ করা হয়। এদিকে, হেলথ কার্ডের নামে প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকতে জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। কোনো প্রতিষ্ঠান বা স্বাস্থ্যসেবা কার্ডের সদস্যপদ গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সত্যতা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কানাইঘাটে ৯৬০ কেজি সালফার জব্দ, গ্রেপ্তার ১

কানাইঘাটে ৯৬০ কেজি সালফার জব্দ, গ্রেপ্তার ১


নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেটের কানাইঘাটে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৯৬০ কেজি সালফার টুকরাভর্তি পিকআপ গাড়ি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জাকির আহমদ (৩১) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জব্দ করা সালফারের আনুমানিক মূল্য ৫ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। এ সময় অপর এক আসামি পালিয়ে যায়।

রোববার (১১ অক্টোবর) রাত ৩টা ৫ মিনিটের দিকে উপজেলার ৫ নং বড়চতুল ইউনিয়নের চতুল বাজার এলাকার একটি পেট্রোল পাম্পের প্রায় ১০০ গজ পশ্চিমে পাকা সড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে এ অভিযান চালানো হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলামের নির্দেশনায় উপপরিদর্শক (এসআই) কবির হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় সালফার টুকরাভর্তি পিকআপসহ জাকির আহমদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে তাঁর সঙ্গে থাকা অপর এক আসামি কৌশলে পালিয়ে যায়।

গ্রেপ্তার জাকির আহমদ কানাইঘাট উপজেলার বাউরভাগ ১ম খণ্ড এলাকার আব্দুস শুক্কুর ও হেলেনা বেগমের ছেলে।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার জাকির আহমদ ও পলাতক আসামির বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর ২৫বি(১)(বি)/২৫ডি ধারায় কানাইঘাট থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলাটি ১১ অক্টোবর দায়ের করা হয়। মামলা নম্বর ৬।

মামলার তদন্তভার উপপরিদর্শক সুব্রত চন্দ্র দাসের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিকে যথাযথ প্রক্রিয়ায় আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কানাইঘাটে প্রভাতীর বৃত্তি পেল দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী, পুরস্কার দিলেন এমপি আবুল হাসান

কানাইঘাটে প্রভাতীর বৃত্তি পেল দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী, পুরস্কার দিলেন এমপি আবুল হাসান


নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেটের কানাইঘাটে মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীর হাতে শিক্ষাবৃত্তি, নগদ অর্থ ও সনদপত্র তুলে দিয়েছে বৃহৎ সামাজিক সংগঠন প্রভাতী সমাজ কল্যাণ যুব সংঘ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মাওলানা আবুল হাসান।

শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার ঝিংগাবাড়ী ইউনিয়নের বোরহান উদ্দিন বাজারস্থ ইকবাল কনভেনশন হলে এ শিক্ষাবৃত্তি ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রভাতী সমাজ কল্যাণ যুব সংঘের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা এবং মরহুমা ফারহানা রহমান মসজিদভিত্তিক বৃত্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

প্রভাতী সমাজ কল্যাণ যুব সংঘের সভাপতি মাওলানা বিলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ছালিম আছলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৮ নম্বর ঝিংগাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু বকর, সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি এখলাছুর রহমান, খেলাফত মজলিস সিলেট জেলা শাখার সিনিয়র সহসভাপতি মাওলানা মখলিছুর রহমান, ঝিংগাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্বাস উদ্দিন এবং খেলাফত মজলিস কানাইঘাট উপজেলা শাখার সেক্রেটারি আমিমুল এহসান শামীম।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন ও উপস্থিত ছিলেন গাছবাড়ি সামিট মাদরাসার অধ্যক্ষ মুখতার আহমদ, প্রভাতী সমাজ কল্যাণ যুব সংঘের উপদেষ্টা জালাল উদ্দিন, আমিনুল ইসলাম ও সাইদুর রহমান এবং সংগঠনের সম্মানিত সদস্য মাওলানা আব্দুর রহমান। অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষানুরাগী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মুফতি মাওলানা আবুল হাসান বলেন, “প্রভাতী সমাজ কল্যাণ যুব সংঘের মতো সংগঠনগুলোই সমাজের আলোকবর্তিকা। তারা মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে যে মহতী উদ্যোগ নিয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। শিক্ষাই একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণ করে।”

তিনি আরও বলেন, আজকের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে দেশ ও জাতির নেতৃত্ব দেবে। তাই তাদের পড়ালেখায় আরও মনোযোগী হতে হবে। মোবাইল ফোনে অতিরিক্ত সময় ব্যয় না করে বই-পুস্তকে বেশি সময় দিতে হবে।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিবৃন্দ দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীর হাতে নগদ অর্থ ও সনদপত্র তুলে দেন। আয়োজকদের এ উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহ জোগানোর পাশাপাশি শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

কানাইঘাট সীমান্তে উদ্ধার শাহিনের লা শ হস্তান্তর, অভিযোগ করেনি পরিবার

কানাইঘাট সীমান্তে উদ্ধার শাহিনের লা শ হস্তান্তর, অভিযোগ করেনি পরিবার


নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেটের কানাইঘাট সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া গুলিবিদ্ধ যুবক শাহিন আহমদের (২৫) লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।

রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুর আনুমানিক ৩টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম।

তিনি জানান, সীমান্ত থেকে উদ্ধার হওয়া যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ দায়ের করেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে, শনিবার (১০ অক্টোবর) বেলা ৩টার দিকে কানাইঘাট উপজেলার লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের সোনারখেওড় সীমান্তসংলগ্ন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ এলাকা থেকে শাহিন আহমদ নামের ওই যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

পরে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়। রোববার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে পরিবারের সদস্যদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়।

নিহত শাহিন আহমদ কানাইঘাট উপজেলার কেউটি হাওর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল লতিফের ছেলে। পেশায় তিনি একজন দিনমজুর ছিলেন। তাঁর স্ত্রী ও দুই কন্যাসন্তান রয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে এবং কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি। এ ঘটনায় অভিযোগ দায়ের হলে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বিশ্বজয়ী দুই হাফেজে গর্বিত কানাইঘাট, উজ্জ্বল বাংলাদেশের মুখ!

বিশ্বজয়ী দুই হাফেজে গর্বিত কানাইঘাট, উজ্জ্বল বাংলাদেশের মুখ!


মাহবুবুর রশিদ :

বছর দুয়েক আগে কানাইঘাট উপজেলার রাজাগঞ্জ ইউনিয়নে একটি হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় হাফেজ এহতেশামুল হক হীরার সুমধুর কণ্ঠে কোরআন তেলাওয়াত শুনে আবেগে আপ্লুত হয়েছিলাম। সেই মুগ্ধতা আজও হৃদয়ে গেঁথে আছে। কে জানত, সেদিনের সেই মুগ্ধতা একদিন বিশ্বজয়ের আনন্দে রূপ নেবে!

যতদূর জানি, হীরার বাবা-মা দুজনই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। তাঁরা নিজেদের সন্তানকে কোরআনের হাফেজ হিসেবে গড়ে তুলেছেন এবং হৃদয়ে লালন করেছেন একটি সুন্দর স্বপ্ন,একদিন তাঁদের সন্তান কোরআনের আলোয় আলোকিত করবে চারপাশ। আজ সেই স্বপ্ন সত্যি হয়েছে। হীরা শুধু তাঁর বাবা-মায়ের মুখ উজ্জ্বল করেনি, আলোকিত করেছে পুরো কানাইঘাটকে, গর্বিত করেছে সিলেটবাসীকে, সম্মান বাড়িয়েছে বাংলাদেশের।

মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত ৬৬তম আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতার হিফজুল কোরআন বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকাকে গৌরবান্বিত করেছে হাফেজ এহতেশামুল হক হীরা। এর আগেও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় একাধিক পুরস্কার অর্জন করেছে সে।

হীরার গ্রামের বাড়ি সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার ঝিঙ্গাবাড়ী ইউনিয়নের ফালজুর গ্রামে। তাঁর পিতা মাস্টার আনোয়ারুল হক। একজন সন্তানের এমন সাফল্যের পেছনে বাবা-মায়ের ত্যাগ, ভালোবাসা, দোয়া ও নিরলস প্রচেষ্টা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, হীরার অর্জন যেন তারই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

আনন্দের এখানেই শেষ নয়, কানাইঘাটের গৌরবগাথায় যুক্ত হয়েছে আরও একটি উজ্জ্বল অধ্যায়! গত মাসে কাতারে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেছে আমাদের উপজেলার আরেক গর্বিত সন্তান হাফেজ কামরুজ জামান কামিল। তাঁর এই অসাধারণ অর্জনে গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা।

একটু ভেবে দেখুন, একই উপজেলার দুই তরুণ হাফেজ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন! তাঁদের কণ্ঠে ধ্বনিত হচ্ছে পবিত্র কোরআনের বাণী, তাঁদের সাফল্যে উজ্জ্বল হচ্ছে বাংলাদেশের নাম। এটি শুধু দুজন ব্যক্তির অর্জন নয়; এটি তাঁদের পরিবার, শিক্ষক, প্রতিষ্ঠান, এলাকাবাসী এবং সমগ্র দেশবাসীর জন্য এক অনন্য গৌরবের উপলক্ষ।

জানামতে, হাফেজ হীরা ও হাফেজ কামিল,দুজনেরই শিকড় রাজাগঞ্জ ইউনিয়নে। তাই রাজাগঞ্জ ইউনিয়নবাসীর প্রতি আন্তরিক আহ্বান, এই দুই বিশ্বজয়ী কোরআনের হাফেজকে ঘিরে আয়োজন করা হোক একটি বর্ণাঢ্য ও সম্মানজনক সংবর্ধনা। তাঁদের সাফল্যকে যথাযথ সম্মান জানানো হোক, তাঁদের অর্জন ছড়িয়ে দেওয়া হোক নতুন প্রজন্মের মাঝে। এমন আয়োজন ভবিষ্যতে আরও অনেক শিশুকে পবিত্র কোরআন হিফজ করতে, জ্ঞান অর্জন করতে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে অনুপ্রাণিত করবে।

হীরা ও কামিল, তোমরা কানাইঘাটের গর্ব, সিলেটের অহংকার, বাংলাদেশের গৌরব!

তোমাদের কণ্ঠে কোরআনের সুমধুর তেলাওয়াত ছড়িয়ে পড়ুক পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। তোমাদের হাত ধরে বিশ্বমঞ্চে বারবার উচ্চারিত হোক বাংলাদেশের নাম। মহান আল্লাহ তোমাদের ইলম, আমল, ইখলাস ও নেক হায়াতে বরকত দান করুন। কোরআনের খেদমতে তোমাদের জীবনকে কবুল করুন এবং ভবিষ্যতেও এমন সাফল্য অর্জনের তাওফিক দান করুন।

কানাইঘাটের মাটি থেকে বিশ্বমঞ্চে-কোরআনের আলোয় আলোকিত হোক আগামীর বাংলাদেশ।

দুজনের জন্য রইল অফুরন্ত ভালোবাসা, আন্তরিক দোয়া ও প্রাণঢালা শুভকামনা।

Saturday, October 10

বিশ্বসেরা কানাইঘাটের হাফেজ হিরা

বিশ্বসেরা কানাইঘাটের হাফেজ হিরা


নিজস্ব প্রতিবেদক :

মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত ৬৬তম আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় হিফজুল কোরআন বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন সিলেটের কানাইঘাটের কৃতী সন্তান হাফেজ ইহতেশামুল হক হিরা। তাঁর অসাধারণ এ সাফল্যে গর্বিত কানাইঘাটবাসীসহ পুরো বাংলাদেশ।

হিরা ঢাকার মিরপুর-১-এ অবস্থিত মারকাযু ফয়জিল কোরআন আল ইসলামীর শিক্ষার্থী। শনিবার (১০ অক্টোবর) তাঁর এ অনন্য অর্জনের তথ্য নিশ্চিত করেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মুফতি মাসুম ফয়েজী।

তিনি জানান, গত ৬ থেকে ১০ অক্টোবর মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত এ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বিশ্বের শতাধিক দেশের প্রতিযোগী অংশ নেন। কয়েক ধাপের বাছাইপর্ব পেরিয়ে ৩৮টি দেশের প্রতিযোগী চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে হিফজুল কোরআন বিভাগে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন বাংলাদেশের প্রতিনিধি হাফেজ ইহতেশামুল হক হিরা।

আন্তর্জাতিক এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। শনিবার অনুষ্ঠিত সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে দেশটির বিভিন্ন পর্যায়ের রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন মালয়েশিয়ার ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী ড. জুলকিফলি হাসান।

হাফেজ ইহতেশামুল হক হিরার গ্রামের বাড়ি সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার ঝিঙ্গাবাড়ী ইউনিয়নের ফালজুর গ্রামে।তার পিতার নাম মাস্টার আনোয়ারুল হক।

পবিত্র কোরআন হিফজের সাধনা, অধ্যবসায় ও নিষ্ঠার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রথম স্থান অর্জন করে তিনি নিজ জন্মভূমি কানাইঘাটসহ পুরো বাংলাদেশের জন্য সম্মান বয়ে এনেছেন।

তাঁর এ সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং বাংলাদেশের কোরআন শিক্ষার ঐতিহ্য ও ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও এক অনন্য গৌরবের উপলক্ষ। বিশ্বমঞ্চে হিরার এ বিজয় নতুন প্রজন্মের কোরআনের শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

কানাইঘাট সীমান্তে গু'লি'বি'দ্ধ যুবকের লা*শ উদ্ধার

কানাইঘাট সীমান্তে গু'লি'বি'দ্ধ যুবকের লা*শ উদ্ধার


নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার সোনারখেওড় সীমান্ত এলাকায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় শাহিন আহমদ (২৫) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সীমান্তের ১৩২৮ নম্বর পিলারসংলগ্ন বাংলাদেশের অভ্যন্তর থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। তবে কে বা কারা তাঁকে গুলি করেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের সোনারখেওড় সীমান্তবর্তী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত শাহিন আহমদ উপজেলার কেউটি হাওর গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে শাহিন আহমদ বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেননি। পরদিন শনিবার সকাল ১০টার দিকে স্থানীয় লোকজন সোনারখেওড় গ্রামের সীমান্তবর্তী কৃষিজমিতে তাঁর গুলিবিদ্ধ লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাঁরা বিষয়টি নিহতের পরিবারকে জানান। খবর পেয়ে তাঁর বড় ভাই জসিম উদ্দিন কানাইঘাট থানা পুলিশকে অবহিত করেন। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শাহিন আহমদ মাঝেমধ্যে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের খাসিয়া পুঞ্জিতে শ্রমিকের কাজ করতে যেতেন। তাঁদের ধারণা, শুক্রবার রাতে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করার সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে থাকতে পারেন। এ ঘটনায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ অথবা সীমান্ত এলাকার অস্ত্রধারী খাসিয়াদের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে স্থানীয়দের কেউ কেউ ধারণা করছেন। তবে এসব বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, খবর পেয়ে পুলিশ সোনারখেওড় সীমান্ত এলাকা থেকে শাহিন আহমদের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে। তাঁর পিঠে গুলির চিহ্ন রয়েছে। তবে কে বা কারা তাঁকে গুলি করেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

নিহতের বড় ভাই জসিম উদ্দিন জানান, শাহিন আহমদ দিনমজুরের কাজ করতেন। তাঁর স্ত্রী ও দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

সীমান্তের কাঁটাতারের কাছাকাছি এক যুবকের এমন রহস্যজনক মৃত্যুতে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্তের অপেক্ষায় রয়েছেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী।