Previous
Next

সর্বশেষ


Thursday, July 16

কানাইঘাটে পুলিশের অভিযানে ৫ লাখ টাকার চোরাই পণ্য জব্দ, গ্রেফতার ১

কানাইঘাটে পুলিশের অভিযানে ৫ লাখ টাকার চোরাই পণ্য জব্দ, গ্রেফতার ১


নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার দিঘীরপাড় ইউনিয়নের সড়কের বাজার এলাকায় পুলিশের অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় চোরাই সিগারেট ও গাড়ির ট্রায়ার জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় এক চোরাকারবারীকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ।

বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে চোরাচালানবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে সড়কের বাজার এলাকার জনৈক আজমল মিয়ার ভাড়া বাসায় অভিযান চালায় কানাইঘাট থানা পুলিশ। এ সময় ভারত থেকে অবৈধ পথে আনা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিপুল পরিমাণ সিগারেট ও ভারতীয় কোম্পানির গাড়ির ট্রায়ার উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, জব্দ করা চোরাইপণ্যের আনুমানিক মূল্য ৫ লাখ ২০ হাজার টাকা। অভিযানে উপজেলার লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের উজান বারাপৈত গ্রামের মৃত মাসুক উদ্দিনের ছেলে ইসলাম উদ্দিন (২৬) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়।

কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলামের নির্দেশে পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন এসআই শৈলস চন্দ্র দাস, এসআই শাহ আলম ও এসআই কবির হোসেন। এ ঘটনায় কানাইঘাট থানা পুলিশ বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা দায়ের করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কানাইঘাটের লোভাছড়া ও দনা সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় বিভিন্ন চোরাইপণ্য দেশে এনে সড়কের বাজারসহ আশপাশের এলাকায় মজুদ ও বিক্রি করে আসছে। স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, সীমান্তপথে মাদকসহ বিভিন্ন অবৈধ পণ্যের প্রবেশের কারণে এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডও বাড়ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, চোরাচালান ও অবৈধ ব্যবসার বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

কানাইঘাটে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

কানাইঘাটে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত


নিজস্ব প্রতিবেদক:

জুলাই শহীদ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে কানাইঘাট উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার(১৬ জুলাই) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহদী হাসান শাকিলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাপস চক্রবর্তী তুষার, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন ও জুলাই যোদ্ধা সাফিয়ান।

সভায় বক্তারা বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান দেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে। অন্যায়, অবিচার ও জুলুমের বিরুদ্ধে এ দেশের মানুষ সব সময় সংগ্রামের মাধ্যমে নিজেদের অধিকার আদায় করেছে। জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের লক্ষ্য ও চেতনাকে ধারণ করে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। তবে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সভায় অংশ নেওয়া কয়েকজন জুলাই যোদ্ধা। জুলাই যোদ্ধা সাফিয়ান, জসিম ও আব্দুল মানিকসহ কয়েকজন অভিযোগ করেন, অনুষ্ঠানটি নামমাত্র আয়োজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।

তাদের অভিযোগ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও অন্যান্য বক্তার বক্তব্যের পর অল্প সময়ের মধ্যেই সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। এতে রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দসহ অনেক অংশগ্রহণকারী বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পাননি। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, সভায় যোগদানের আগেই অনুষ্ঠান শেষ হয়ে যায়।

তারা আরও বলেন, জুলাই শহিদ দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি দিবসের আলোচনা সভায় আরও বেশি সময় দিয়ে মুক্ত আলোচনা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন ছিল। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সহকারী শিক্ষক নেবে কানাইঘাটের স্কলার্স মডেল স্কুল

সহকারী শিক্ষক নেবে কানাইঘাটের স্কলার্স মডেল স্কুল


কানাইঘাট পৌরসভার স্বনামধন্য ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান স্কলার্স মডেল স্কুলে প্রাথমিক শাখার জন্য জরুরি ভিত্তিতে কিছু ‘সহকারী শিক্ষক’(শুধুমাত্র মহিলা) পদে জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহীরা আগামী ২৫ জুলাই পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

প্রতিষ্ঠানের নাম: স্কলার্স মডেল স্কুল

পদের নাম: সহকারী শিক্ষক(প্রাথমিক শাখা)

পদসংখ্যা: ০৩ জন (শুধুমাত্র মহিলা)

শিক্ষাগত যোগ্যতা: বি.এ/বি.এস.এস/বি.এস.সি পাশ/বা অধ্যয়নরত (অভিজ্ঞ প্রার্থীদের অগ্রাধিকার)

বেতন/সম্মানী: আলোচনা সাপেক্ষে

আবেদননের নিয়মাবলী: সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ প্রার্থীদের অগ্রাধিকার রয়েছে। আগ্রহী প্রার্থীদের আবেদনপত্রের সঙ্গে শিক্ষাগত যোগ্যতার সকল সনদপত্র ও মার্কশিটের ফটোকপি, সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের ২ কপি ছবি, NID কার্ড অথবা জন্মনিবন্ধন কার্ডের ফটোকপি ও মোবাইল নম্বরসহ লিখিত আবেদনপত্র সভাপতি/প্রধান শিক্ষক, স্কলার্স মডেল স্কুল, কানাইঘাট পৌরসভা, সিলেট বরাবরে আগামী ২৫/০৭/২০২৬ ইং এর মধ্যে অফিস কক্ষে সরাসরি অথবা ০১৭২৮৫২২৪৫৫ এই হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে জমা দিতে পারবেন।




প্রাথমিকে ট্যালেন্টপুল বৃত্তি পেল কানাইঘাট প্রি-ক্যাডেট স্কুলের মাইশা ফাহমিদা

প্রাথমিকে ট্যালেন্টপুল বৃত্তি পেল কানাইঘাট প্রি-ক্যাডেট স্কুলের মাইশা ফাহমিদা


নিজস্ব প্রতিবেদক:

২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় গৌরবোজ্জ্বল সাফল্য অর্জন করেছে কানাইঘাট প্রি-ক্যাডেট স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী মাইশা ফাহমিদা। তীব্র প্রতিযোগিতাপূর্ণ এ পরীক্ষায় অসাধারণ কৃতিত্ব দেখিয়ে সে সর্বোচ্চ ‘ট্যালেন্টপুল’ (মেধাবৃত্তি) ক্যাটাগরিতে বৃত্তি লাভ করেছে।

রবিবার (১২ জুলাই) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। দেশব্যাপী বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এ মেধার লড়াইয়ে মাইশার এমন সাফল্যে তার পরিবার, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও সহপাঠীদের মাঝে আনন্দের আবহ সৃষ্টি হয়েছে।

মাইশা ফাহমিদার এই অসামান্য অর্জনে তার পিতা আল-মামুন ও মাতা ফরিদা বেগম গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, নিয়মিত অধ্যয়ন, শিক্ষকদের আন্তরিক দিকনির্দেশনা এবং মাইশার কঠোর পরিশ্রমের ফলেই এ সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও মাইশা যেন তার মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে দেশের মুখ উজ্জ্বল করতে পারে, সেজন্য তারা সবার কাছে দোয়া কামনা করেছেন।

মাইশা ফাহমিদা তার এ কৃতিত্বের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা ও পিতা-মাতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজেকে একজন যোগ্য মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেছে।

কানাইঘাট প্রি-ক্যাডেট স্কুলের শিক্ষকরা জানান, মাইশা একজন নিয়মিত, অধ্যবসায়ী ও মেধাবী শিক্ষার্থী। তার এ অর্জন প্রতিষ্ঠানের জন্যও গৌরবের বিষয়।

ঢাকা-সিলেট রুটে চালু হচ্ছে বিরতিহীন ট্রেন 'টাঙ্গুয়ার এক্সপ্রেস'

ঢাকা-সিলেট রুটে চালু হচ্ছে বিরতিহীন ট্রেন 'টাঙ্গুয়ার এক্সপ্রেস'


এহসানুল হক জসীম:

ক্রমবর্ধমান যাত্রী চাপ সামাল দিতে ঢাকা-সিলেট-ঢাকা রুটে খুব শীঘ্রই এক জোড়া নতুন বিরতিহীন ইন্টারসিটি ট্রেন সার্ভিস চালু হতে যাচ্ছে। সরকার ইতিমধ্যে এই বিরতিহীন ট্রেনটির অনুমোদন দিয়েছে, যার নাম রাখা হয়েছে 'টাঙ্গুয়ার এক্সপ্রেস'। বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদে সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইমরান আহমেদ চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এই তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, "মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে ঢাকা-সিলেট-ঢাকা রুটের জন্য 'টাঙ্গুয়ার এক্সপ্রেস' নামের এক জোড়া নতুন বিরতিহীন ইন্টারসিটি ট্রেন চালুর অনুমোদন দিয়েছেন।"

তবে নতুন এই ট্রেন সার্ভিসটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন বর্তমান রেল বহরের ইঞ্জিন ও কোচ সংকটের কারণে কিছুটা সময় নেবে। নতুন ইঞ্জিন ও কোচ সংগ্রহের পরই এটি চূড়ান্তভাবে চালু করা সম্ভব হবে। বর্তমানে এই রুটে চার জোড়া ট্রেন চলে, টাঙ্গুয়ার এক্সপ্রেস চালু হলে তখন পাঁচ জোড়া হবে। 

রেলপথ মন্ত্রী জানান, ২০০টি মিটারগেজ যাত্রীবাহী কোচ সংগ্রহের জন্য একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরির কাজ চলছে। এছাড়া এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের (এআইআইবি) অর্থায়নে 'রেলওয়ে সক্ষমতা বৃদ্ধি' প্রকল্পের আওতায় ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) কেনার জন্য আরেকটি পৃথক ডিপিপি অনুমোদনের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এসব রোলিং স্টক (ইঞ্জিন ও কোচ) হাতে পাওয়া মাত্রই নতুন ট্রেনটি লাইনে নামানো হবে।

সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাহফুজা হান্নানের এক প্রশ্নের জবাবে এই রুটে ব্রডগেজ ট্রেন চালুর বিষয়ে কথা বলেন মন্ত্রী। শেখ রবিউল আলম বলেন, ঢাকা-সিলেট রুটে বর্তমানে মিটারগেজ লাইন চালু রয়েছে। ভবিষ্যতে এই রেললাইনটিকে ডুয়াল-গেজ বা ব্রড-গেজ সিস্টেমে রূপান্তর করা এবং প্রয়োজনীয় রোলিং স্টক সংগ্রহ করা হলে ব্রডগেজ যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য আতিকুর রহমান মুজাহিদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আশ্বাস দেন যে, ২০০টি মিটারগেজ কোচ এবং এআইআইবি-র অর্থায়নে ৩০টি ইঞ্জিন সংগ্রহের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর ঢাকা-কুড়িগ্রাম-ঢাকা রুটেও একটি নতুন ইন্টারসিটি ট্রেন চালু করা হবে।

খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ জাহাঙ্গীর হোসেনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, খুলনা-যশোর রুটের পুরোনো ট্র্যাক সংস্কার এবং সিগন্যালিং ব্যবস্থার আধুনিকায়নের কাজ চলছে।

ময়মনসিংহ-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুল হাসানের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি নিশ্চিত করেন যে, জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ-জামালপুর সেকশনে ডুয়াল-গেজ ডাবল লাইন নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যে সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি) সম্পন্ন হয়েছে।

লোভাছড়া পাথর কোয়ারির মামলার তদন্তে অনিয়ম: সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ

লোভাছড়া পাথর কোয়ারির মামলার তদন্তে অনিয়ম: সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক:

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার লোভাছড়া পাথর কোয়ারিকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া শ্রমিক নির্যাতন ও পাথর লুটপাটের দুটি আলোচিত মামলা তদন্তে অনিয়ম, প্রকৃত আসামিদের রক্ষা এবং নিরীহ শ্রমিকদের হয়রানির অভিযোগ তুলে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছে লোভাছড়া লোড-আনলোড শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি. নং সিলেট-৮০, সিবিএ)।


বুধবার (১৫ জুলাই) সিলেট প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি মো. আখতার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়। লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন, গত ৬ আগস্ট ২০২৫ সিলেট প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লোভাছড়া পাথর কোয়ারিতে পাথর অপসারণে অনিয়ম, শ্রমিক নির্যাতন, ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও পাথর লুটপাটসহ বিভিন্ন বিষয়ে ৮ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছিল। পরে ১৪ আগস্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকে ৮ নম্বর দাবি প্রত্যাহার করে ৭ দফা দাবিতে অটল থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। 


তারা বলেন, ওই দাবির ৪ ও ৭ নম্বর দাবি বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় কর্মস্থলে তিন শ্রমিককে নির্যাতনের ঘটনায় কানাইঘাট জি.আর. নং ১৩৪/২৫ এবং পাথর লুটপাটের ঘটনায় জি.আর. নং ১৩৫/২৫ মামলা রেকর্ড হয়। এতে তাদের দুটি দাবি বাস্তবায়নের পথে অগ্রগতি হলেও বাকি দাবিগুলো কোয়ারি চালু হলে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের আশা প্রকাশ করেন তারা।


সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিক নেতারা অভিযোগ করেন, মামলা রেকর্ড হওয়ার পর থেকে পুলিশ কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করেনি। বরং অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে চলাফেরা করার সুযোগ পেয়েছে। এর ফলে মামলার বাদী নিরাপত্তাহীনতায় পড়েন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ভুক্তভোগী সুলতান ও শহীদ এবং শ্রমিক ইউনিয়নের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ ছাড়াই মামলাটি আপস হয়েছে উল্লেখ করে ২৭ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে আদালতে একটি মিথ্যা আপসনামা দাখিল করা হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।


তারা আরও বলেন, মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে পিয়াস এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী কামরুল হাসান তুহিনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং মামলার ৩০৭ ও ১১৪ ধারা প্রত্যাহার করে ৫০৬ ধারা সংযোজন করা হয়েছে, যা ন্যায়বিচার প্রাপ্তির পথে অন্তরায় সৃষ্টি করেছে। তদন্ত কার্যক্রম গোপনে পরিচালিত হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে আদালতে আপত্তি জানানোর সুযোগ থেকেও বাদী ও শ্রমিক ইউনিয়ন বঞ্চিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়।


শ্রমিক নেতারা আরও বলেন, আদালত ৭ জুলাই ২০২৬ তারিখে মামলার প্রধান আসামি তমিজ উদ্দীন পলাতক থাকায় তার স্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ দিয়েছেন। তারা প্রশ্ন রেখে বলেন, কিশোর শ্রমিক আহাদ হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তারে সাফল্য দেখানো কানাইঘাট থানা পুলিশ তমিজ উদ্দীনকে গ্রেপ্তার করবে, নাকি আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তার সম্পত্তি ক্রোক করে আদালতে সমর্পণ করবে—এ বিষয়ে তারা প্রশাসনের স্পষ্ট অবস্থান জানতে চান।


অপরদিকে জি.আর. নং ১৩৫/২৫ (পাথর লুটপাট) মামলার তদন্ত নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করে শ্রমিক ইউনিয়ন। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘ নয় মাস তদন্তের পরও প্রকৃত দায়ীদের বাদ দিয়ে নিরীহ দুই শ্রমিক আলমাছ উদ্দিন ও আলাউদ্দিনসহ কয়েকজন সাধারণ ব্যবসায়ীকে আসামি করা হয়েছে। তারা এ তদন্ত প্রতিবেদন বাতিল করে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান।


লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সরকার অনুমোদিত সময়ের বাইরে ২৩ জুলাই থেকে ১৯ আগস্ট ২০২৫ পর্যন্ত লোভাছড়া পাথর কোয়ারি থেকে অবৈধভাবে প্রায় ১৫ লাখ ৬১ হাজার ঘনফুট পাথর অপসারণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত প্রকৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

শ্রমিক নেতারা অভিযোগ করেন, পাথর লুটপাটের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ায় পিয়াস এন্টারপ্রাইজ তাদের সংগঠনের সভাপতি মো. আখতার হোসেনের বিরুদ্ধে সিলেট আদালতে এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে জালালাবাদ থানায় পৃথক মামলা দায়ের করেছে।পিয়াস এন্টারপ্রাইজ ৩১/৭/২৫ তারিখ শাহপরান সি আর ৩৮১/২৫ এবং ৪/৮/২৫ জালালাবাদ জিআর ৯৭/২৫  দুইটি  মামলায় স্বীকার করছেন যে  লোভাছড়া পাথর কোয়ারী থেকে পাথর নিচ্ছেন কিন্তু ১৩৫/২৫ মামলার তদন্তে  পিয়াস এন্টারপ্রাইজ কে আসামি করা হয়  নাই। তারা এসব মামলাকে হয়রানিমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন।


সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত, শ্রমের পরিমাপে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অনিয়ম বন্ধ করে বকেয়া শ্রমমূল্য পরিশোধ, আধুনিক যন্ত্রপাতির কারণে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান সংকুচিত হওয়া বন্ধ, দ্রুত লোভাছড়া পাথর কোয়ারি চালু, প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা এবং শ্রমিক ইউনিয়নের ৭ দফা দাবি বাস্তবায়নে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

এছাড়া কর্মস্থলে নিহত কিশোর শ্রমিক আহাদ হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধ, শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং কানাইঘাটে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা।

Tuesday, July 14

কানাইঘাটে সবজি বাগানের নামে সরকারি রাস্তা দখল, বিপাকে কৃষক-জনসাধারণ

কানাইঘাটে সবজি বাগানের নামে সরকারি রাস্তা দখল, বিপাকে কৃষক-জনসাধারণ


নিজস্ব প্রতিবেদক:

কানাইঘাট সদর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডে সরকারি কাঁচা রাস্তা দখল করে সবজি বাগান ও বাঁশের বেড়া নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে। এতে উমাগড় পশ্চিম গ্রামসহ আশপাশ এলাকার সাধারণ মানুষের চলাচল এবং কৃষকদের কৃষিকাজে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গাজী বুরহান উদ্দিন সড়ক থেকে উমাগড় পশ্চিমমুখী সরকারি কাঁচা রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম। উমাগড় গ্রাম হয়ে হাওড় পর্যন্ত বিস্তৃত এ সড়কটি প্রায় এক যুগ আগে সরকারি অর্থায়নে নির্মাণ করা হয়। পরবর্তীতে জনসাধারণের চলাচলের সুবিধার্থে বুরহান উদ্দিন সড়কের কিছু অংশ ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে ইট সলিং করা হয়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকারি গোপাটের ওপর নির্মিত এ রাস্তার দুই পাশে কয়েক বছর ধরে প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি বাঁশের বেড়া দিয়ে সবজি বাগান তৈরি করে ধীরে ধীরে রাস্তা দখলে নিয়েছেন। প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ ফুট প্রশস্ত গোপাটের জায়গায় বর্তমানে মাত্র ২০ ফুটের মতো অংশ চলাচলের জন্য রাখা হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। এ কারণে হাওড় এলাকার খাসের বন্দ নামের বিশাল ফসলি মাঠে কৃষকরা হালের ট্রাক্টর, যান্ত্রিক কৃষি যন্ত্রপাতি কিংবা গরু-মহিষ নিয়ে যাতায়াতে বাধার মুখে পড়ছেন। সাধারণ মানুষের চলাচলেও সৃষ্টি হয়েছে ভোগান্তি।

রাস্তা দখলমুক্ত করার দাবিতে সম্প্রতি স্থানীয় বাসিন্দারা গণস্বাক্ষর সংবলিত একটি অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর জমা দিয়েছেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফসর উদ্দিন আহমদ চৌধুরীকে অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। সোমবার (১৩ জুলাই) সরেজমিনে গেলে স্থানীয়রা জানান, সরকারি রাস্তা দখলমুক্ত করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে না দিলে কৃষকসহ সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপে রাস্তাটি দখলমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।


Sunday, July 12

বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসে কানাইঘাটে উৎসবমুখর আয়োজন, সম্মাননা পেলেন শ্রেষ্ঠ কর্মীরা

বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসে কানাইঘাটে উৎসবমুখর আয়োজন, সম্মাননা পেলেন শ্রেষ্ঠ কর্মীরা


নিজস্ব প্রতিবেদক : 

“তরুণদের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করি, আজকের প্রত্যয়ে সুন্দর আগামী গড়ি”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে সিলেটের কানাইঘাটে আলোচনা সভা, সচেতনতামূলক কর্মসূচি এবং শ্রেষ্ঠ কর্মী ও শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠানের মাঝে সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।

রোববার (১২ জুলাই) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উদ্যোগে পরিবার পরিকল্পনা হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. আবুল হারিছ।

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ফারুক আহমেদের সভাপতিত্বে এবং পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক তানভীর জাহান চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এমএসি’র পিও-সিএম (কমিউনিটি মবিলাইজেশন প্রোগ্রাম) মো. হুমায়ুন কবির।

এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক মুজিবুর রহমান, উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার নাহিদ আহমদ শিব্বির, পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা শাহরিয়া আক্তার, সীমান্তিকের উপজেলা সুপারভাইজার মো. আবুল কালাম এবং কানাইঘাট প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক সুজন চন্দ অনুপ।

আলোচনা সভায় পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমের সাফল্য, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যের উন্নয়ন এবং সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করতে পরিবার পরিকল্পনা সেবাকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করতে হবে। একই সঙ্গে নিরাপদ মাতৃত্ব, মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা এবং পরিবার কল্যাণ কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে পরিবার পরিকল্পনা, মা ও শিশুস্বাস্থ্য কার্যক্রমে বিশেষ অবদান রাখায় নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ কর্মী ও শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে সম্মাননা স্মারক, ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।

এ বছর শ্রেষ্ঠ কর্মী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন কানাইঘাট সদর ইউনিয়নের পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক সোহেল আহমদ, দিঘীরপাড় পূর্ব মডেল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা চন্দনা রানী চন্দ, রাজাগঞ্জ ইউনিয়নের পরিবার কল্যাণ সহকারী অর্পনা রানী চক্রবর্তী এবং ঝিঙ্গাবাড়ী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার জাবেদ আহমদ।

অন্যদিকে, পরিবার পরিকল্পনা ও মা-শিশু স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান নির্বাচিত হয়েছে দিঘীরপাড় পূর্ব মডেল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র এবং সাতবাঁক ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র।

Saturday, July 11

গ্লোবাল লিডারশিপ সামিটে বাংলাদেশের প্রতিনিধি কানাইঘাটের জয় দাস

গ্লোবাল লিডারশিপ সামিটে বাংলাদেশের প্রতিনিধি কানাইঘাটের জয় দাস


নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেটের কানাইঘাটের তরুণ শিক্ষাবিদ ও নেতৃত্ব বিকাশক জয় দাস আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন। তিনি মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য গ্লোবাল লিডারশিপ সামিট (GLS) ২০২৬-এ অংশগ্রহণের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন।

আগামী ১০ ও ১১ জুলাই মালয়েশিয়ার এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটি (APU)-তে অনুষ্ঠিত হবে দুই দিনব্যাপী এ আন্তর্জাতিক সম্মেলন। “Leading Leaders, Lighting Legacies” প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ সম্মেলনে বিশ্বের ১৪টি দেশের ৩৫০-এর বেশি তরুণ প্রতিনিধি অংশ নেবেন। সম্মেলনের মূল লক্ষ্য জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs)-এর ১৭টি লক্ষ্য অর্জনে তরুণ নেতৃত্বের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে তোলার জন্য একটি কার্যকর বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা।

সম্মেলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে জয় দাস নেতৃত্ব বিকাশ, নেগোশিয়েশন, পাবলিক স্পিকিং, সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি, সমস্যা সমাধান ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কিংসহ সমসাময়িক নেতৃত্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তরুণ প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং বহুজাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে বৈশ্বিক নেতৃত্বের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করবেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে জয় দাসের এই অংশগ্রহণ কেবল তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি দেশের তরুণ সমাজের মেধা, নেতৃত্বের সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনারও স্বীকৃতি। তাঁর এই সাফল্য কানাইঘাটসহ দেশের তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনে জয় দাসের অংশগ্রহণ বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের তরুণ নেতৃত্বের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরার পাশাপাশি ভবিষ্যতে বৈশ্বিক পর্যায়ে দেশের প্রতিনিধিত্বের নতুন সম্ভাবনাও সৃষ্টি করবে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।

Friday, July 10

বাবার বিদায়ের ১৮ দিন পর পৃথিবীর আলো দেখল জুবায়েরের নবজাতক কন্যা

বাবার বিদায়ের ১৮ দিন পর পৃথিবীর আলো দেখল জুবায়েরের নবজাতক কন্যা


মাহবুবুর রশিদ:

যে দিনটি হওয়ার কথা ছিল জীবনের সবচেয়ে আনন্দের, সেই দিনটিই হয়ে উঠল বেদনার প্রতীক। প্রথম সন্তানের মুখ দেখার স্বপ্ন ছিল কাতারপ্রবাসী জুবায়ের আহমদের। হয়তো দূর প্রবাস থেকে বারবার ফোন করে স্ত্রী ও পরিবারের খোঁজ নিতেন, অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতেন ছোট্ট সন্তানটিকে প্রথমবারের মতো বুকে জড়িয়ে নেওয়ার। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। বাবার মুখ দেখার আগেই পৃথিবীর আলো দেখল জুবায়েরের নবজাতক কন্যা।

কানাইঘাট উপজেলার ঝিংগাবাড়ী ইউনিয়নের মাঝতালুক গ্রামের বাসিন্দা জুবায়ের আহমদ গত ২১ জুন কাতারে সংঘটিত এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। একই দুর্ঘটনায় আরও চার কানাইঘাটী প্রবাসীর মৃত্যু হয়। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে আসে পুরো কানাইঘাটজুড়ে।

গত ৩০ জুন জুবায়েরসহ পাঁচ প্রবাসীর মরদেহ দেশে পৌঁছায়। স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। শেষবারের মতো প্রিয়জনের মুখ দেখে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যায়, জুবায়েরের মৃত্যুর মাত্র ১৮ দিন পর, তার ঘর আলো করে জন্ম নেয় এক ফুটফুটে কন্যাসন্তান। যে শিশুকে ঘিরে একজন বাবার হাজারো স্বপ্ন, ভালোবাসা আর ভবিষ্যতের পরিকল্পনা থাকার কথা ছিল, সেই শিশুই পৃথিবীতে এলো বাবার স্নেহ, স্পর্শ ও মুখ না দেখেই।

একদিকে নবজাতকের জন্মে পরিবারে এসেছে নতুন জীবনের আনন্দ, অন্যদিকে এই আনন্দের মধ্যেও রয়ে গেছে এক গভীর শূন্যতা। শিশুটির প্রথম কান্না যেন আরও একবার মনে করিয়ে দিল-তার বাবা আর কোনোদিন তাকে কোলে নিতে পারবেন না, আদর করে ডাকতে পারবেন না কিংবা তার বেড়ে ওঠার সাক্ষী হতে পারবেন না।

এই পরিবারের বেদনার ইতিহাস আরও দীর্ঘ। প্রায় ১২ বছর আগে সৌদি আরবে এক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান জুবায়েরের বাবা আহসান উল্লাহ। বাবাকে হারানোর সেই শোক কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই একই পরিণতির শিকার হলেন জুবায়ের। যেন একই পরিবারের বুকে বারবার আঘাত হেনেছে নির্মম নিয়তি।

পরিবারের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে কাতারে গিয়েছিলেন জুবায়ের। কিন্তু একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা মুহূর্তেই থামিয়ে দেয় তার সব স্বপ্ন। রেখে যান অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী, শোকাহত স্বজন এবং এমন এক কন্যাসন্তানকে, যে সারাজীবন বাবার গল্প শুনেই বড় হবে-কিন্তু কোনোদিন বাবাকে দেখার সৌভাগ্য হবে না।

ঝিংগাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু বকর বলেন, “বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জুবায়ের আহমদের ঘরে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়েছে। আমি নবজাতককে দেখতে এবং পরিবারের খোঁজখবর নিতে তাদের বাড়িতে যাচ্ছি।”



Thursday, July 9

কানাইঘাটে আহাদ হ*ত্যা: জেলে সায়েম, রি’মা’ন্ডে’র আবেদন পুলিশের

কানাইঘাটে আহাদ হ*ত্যা: জেলে সায়েম, রি’মা’ন্ডে’র আবেদন পুলিশের


নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার কিশোর শ্রমিক আহাদ আহমদ (১৬) হত্যা মামলার প্রধান আসামি সায়েম আহমদ (২৩) আদালতে আত্মসমর্পণ করেছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সিলেটের কানাইঘাট চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণের পর আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সায়েম আহমদ পৌরসভার রায়গড় গ্রামের এনাম উদ্দিন উরফে ভান্ডারী’র ছেলে। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই সে পলাতক ছিলো। 

কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আহাদ হত্যা মামলার প্রধান আসামি সায়েম আহমদকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পুলিশের একাধিক চৌকস দল অভিযান পরিচালনা করছিল। নিজের অবস্থান শনাক্ত হওয়ার পর গ্রেপ্তার এড়াতে সে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। মামলার অধিকতর তদন্তের স্বার্থে তার বিরুদ্ধে ৫ দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করা হবে বলে জানান ওসি।

উল্লেখ্য, গত ২৮ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কানাইঘাট উপজেলা রোডের তাজ উদ্দিন (তাজু) পরিচালিত একটি ওয়ার্কশপে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সায়েম আহমদ স্ক্রু-ড্রাইভার দিয়ে কিশোর শ্রমিক আহাদ আহমদের মাথায় আঘাত করেন। এতে আহাদ গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন সে মারা যায়। এ ঘটনায় নিহতের চাচা রশিক উদ্দিন বাদী হয়ে কানাইঘাট থানায় সায়েম আহমদসহ তিনজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

নিহত আহাদ আহমদ পৌরসভার মহেষপুর গ্রামের একটি টিনশেডের বাসায় তার দুই বোন ও নানার সঙ্গে বসবাস করতো। প্রায় এক বছর আগে তার মা মারা যান। সে পৌরসভার উত্তর দলইমাটি গ্রামের রিকশাচালক সালেহ আহমদের ছেলে । পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে অল্প বয়সেই জীবিকার তাগিদে ওয়ার্কশপে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতো।

Tuesday, July 7

কানাইঘাটে জাহাঙ্গীর হ*ত্যা মা’ম’লা’র ৩ আ’সা’মি কক্সবাজার থেকে গ্রেপ্তার

কানাইঘাটে জাহাঙ্গীর হ*ত্যা মা’ম’লা’র ৩ আ’সা’মি কক্সবাজার থেকে গ্রেপ্তার


নিজস্ব প্রতিবেদক:
 

কানাইঘাটে পারিবারিক বিরোধের জেরে সংঘটিত জাহাঙ্গীর আলম হত্যা মামলার তিন আসামিকে কক্সবাজার থেকে গ্রেপ্তার করেছে কানাইঘাট থানা পুলিশ।

পুলিশ জানায়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত রোববার (৫ জুলাই) রাতে কক্সবাজার শহরে অভিযান চালিয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামি নিহতের ভায়রা ভাই শামীম উদ্দিন (৪৫), তার ভাই ডালিম উদ্দিন (৩৫) এবং ভাগ্নে তারেক উদ্দিন (২৫)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, জাহাঙ্গীর আলম নিহত হওয়ার পর থেকেই পুলিশের একাধিক দল আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনা করে আসছিল। তবে আসামিরা বারবার অবস্থান পরিবর্তন করায় তাদের গ্রেপ্তারে কিছুটা সময় লেগেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা হত্যাকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানান তিনি। মামলার বাকি পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মামলার বাদী ও নিহতের ছোট ভাই আলমগীর হোসেন তিন আসামির গ্রেপ্তারে সন্তোষ প্রকাশ করে কানাইঘাট থানা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তার ভাইকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তিনি এজাহারভুক্ত পলাতক অপর তিন আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান।

উল্লেখ্য, গত বুধবার স্বামী-স্ত্রীর পারিবারিক কলহের জেরে উপজেলার লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের বড়বন্দ ৩য় খণ্ড গ্রামের বাসিন্দা মৃত মুসা মিয়ার ছেলে জাহাঙ্গীর আলমকে স্থানীয় করুনা সুন্দরী দিঘীর সড়কের পাশে তার ভায়রা ভাই শামীম উদ্দিন ও সহযোগীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন সকালে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

এদিকে কিশোর শ্রমিক আহাদ আহমদ হত্যা মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক চৌকস দল দিন-রাত কাজ করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, মামলার প্রধান আসামি সায়েম আহমদকে শিগগিরই গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।

কানাইঘাটে নি'খোঁ'জে'র দুই দিন পর সুরমা নদীতে ভেসে উঠল যুবকের লা/শ

কানাইঘাটে নি'খোঁ'জে'র দুই দিন পর সুরমা নদীতে ভেসে উঠল যুবকের লা/শ


নিজস্ব প্রতিবেদক :

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর সুরমা নদী থেকে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত যুবকের নাম মো. ইকবাল হুসেন (১৯)। সে উপজেলার রাজাগঞ্জ ইউনিয়নের নিজ রাজাগঞ্জ গ্রামের মখলিছ মিয়ার ছেলে।  ইকবাল মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলো বলে জানা গেছে। 

জানা যায়, দুই দিন আগে ইকবাল বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। এরপর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সুরমা নদীর চান্দের বাজার এলাকায় নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি ইকবাল হুসেনের বলে শনাক্ত করেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মাহবুবুর রহমান চুনু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “ইকবাল হুসেন মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। দুই দিন আগে তিনি নিখোঁজ হন। আজ সুরমা নদী থেকে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করেছে।”