Previous
Next

সর্বশেষ


Thursday, October 8

কুড়ারপার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এসএমসি সভাপতি ফের আব্দুল্লাহ

কুড়ারপার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এসএমসি সভাপতি ফের আব্দুল্লাহ


নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার বড় চতুল ইউনিয়নের কুড়ারপার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুল ম্যানেজিং কমিটি (এসএমসি) গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এতে দ্বিতীয়বারের মতো বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মো. আব্দুল্লাহ।

নবগঠিত কমিটিতে মো. জয়নাল আবদীনকে সহ-সভাপতি এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সজল চক্রবর্তীকে সদস্য সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সভাপতি হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর মো. আব্দুল্লাহ বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক, নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে তিনি আন্তরিকভাবে কাজ করে যেতে চান।

তিনি বলেন, “এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী, এলাকাবাসী এবং সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক সহযোগিতা ও পরামর্শ প্রয়োজন। বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে সকলের সহযোগিতা, পরামর্শ ও দোয়া কামনা করছি।”

দ্বিতীয়বারের মতো সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত করা, শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং বিদ্যালয়ের সার্বিক অগ্রগতিতে কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।


সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের এপিপি হলেন অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন সাদিক

সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের এপিপি হলেন অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন সাদিক


নিজস্ব প্রতিবেদক :

সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নতুন অ্যাসিস্ট্যান্ট পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন কানাইঘাটের সন্তান অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন সাদিক।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগের (জিপি-পিপি শাখা) এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

গত সোমবার (৫ অক্টোবর) সিনিয়র সহকারী সচিব (জিপি-পিপি) মো. ফারুক হোসেন স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে সিলেট জেলার বিভিন্ন আদালতের আইন কর্মকর্তাদের নিয়োগ ও অব্যাহতির তথ্য প্রকাশ করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, পূর্বে নিয়োগপ্রাপ্ত সব সরকারি আইনজীবীর নিয়োগাদেশ বাতিল করে তাদের নিজ নিজ পদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে Code of Criminal Procedure, 1898-এর Section 492 এবং Legal Remembrancer's Manual, 1960-এর ক্ষমতাবলে অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন সাদিককে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অ্যাসিস্ট্যান্ট পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন সাদিক আদালতের বিচারিক কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন সাদিক কানাইঘাট উপজেলার ৭ নং দক্ষিণ বানিগ্রাম ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের কান্দিগ্রামের বাসিন্দা। তিনি বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবী এবং কানাইঘাট উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ডা. আবু শহিদ শিকদারের জ্যেষ্ঠ পুত্র।

তিনি ২০২১ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর আইনজীবী হিসেবে পেশাগত জীবনে যোগ দেন। আইন পেশায় দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে আসার ধারাবাহিকতায় এবার সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের এপিপি হিসেবে নতুন দায়িত্ব পেলেন তিনি।

তার এই নিয়োগে কানাইঘাটের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, নতুন দায়িত্বে অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন সাদিক সততা, নিষ্ঠা ও পেশাগত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন এবং বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

কানাইঘাটে দুই শিক্ষককে অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা

কানাইঘাটে দুই শিক্ষককে অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা


নিজস্ব প্রতিবেদক :

কানাইঘাট পৌরসভার মোতাহের আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাহবুবুর রহমান ও হোসেইন আহমদকে অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ১১টায় বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি,এলাকাবাসী, সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।

 বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইকবাল আহমদের সভাপতিত্বে প্রাক্তন শিক্ষার্থী খাজা শামীম আহমদ শাহীন ও তুষার সালের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমাইয়া ফেরদৌস। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব‌্য রাখেন কানাইঘাট সরকারি কলেজের রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান  ফরিদ আহমদ, সিলেট প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি এম.এ হান্নান,উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মিফতাহুজ্জামান,ইউপিইটিসি ইন্সট্রাক্টর মনজুরুল ইসলাম,উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জহিরুল ইসলাম,উপজেলা প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি আব্দুল লতিফ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল আহমদ,সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি নিহার রঞ্জন বর্ধন সহ আরো অনেকে। 

এ সময় সংবর্ধিত শিক্ষক মাহবুবুর রহমান ও হোসেইন আহমদ তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করে বক্তব্য দেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধ গঠনে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তারা।

পরে অবসরপ্রাপ্ত দুই শিক্ষককে বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ, এলাকাবাসী, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং বিভিন্ন উপহারসামগ্রী প্রদান করা হয়।

বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, এলাকাবাসী, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

কানাইঘাটে দুর্গাপূজা ঘিরে প্রশাসন-পুলিশের প্রস্তুতি সভা

কানাইঘাটে দুর্গাপূজা ঘিরে প্রশাসন-পুলিশের প্রস্তুতি সভা


নিজস্ব প্রতিবেদক :

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন করতে কানাইঘাট উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের উদ্যোগে পৃথক প্রস্তুতিমূলক ও আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপজেলার ৩৫টি পূজামণ্ডপে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদযাপন নিশ্চিত করতে সরকারি নির্দেশনার পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া ফেরদৌসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিজিবি, আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা, থানার অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম, বিএনপি, জামায়াত ও খেলাফত মজলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মী এবং উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট, পূজা উদযাপন কল্যাণ ফ্রন্ট, পূজা উদযাপন পরিষদ ও বিভিন্ন পূজামণ্ডপের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া ফেরদৌস বলেন, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কোনো দুষ্কৃতিকারী বা অশুভ শক্তি যাতে ধর্মীয় বিভাজন সৃষ্টি, নাশকতা কিংবা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটাতে না পারে, সে জন্য সরকারের পক্ষ থেকে এবার বেশ কিছু নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি পূজামণ্ডপে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারির পাশাপাশি প্রশাসনের কর্মকর্তারাও সার্বক্ষণিক তদারকি করবেন।

তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে কেউ যাতে ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে, সেজন্য সবাইকে সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে।

এদিকে দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে একই দিন বিকেল ৩টায় কানাইঘাট থানা পুলিশের উদ্যোগে থানা প্রাঙ্গণে আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক পৃথক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট, পূজা উদযাপন পরিষদ ও পূজা উদযাপন ফ্রন্টের নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি উপজেলার ৩৫টি পূজামণ্ডপের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সদস্যরা অংশ নেন।

থানার অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন কানাইঘাট সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার সালমান নুর আলম।

তিনি বলেন, কানাইঘাটে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা সম্পন্ন করতে থানা পুলিশের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি পূজামণ্ডপের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজ-খবর নিয়মিত রাখা হচ্ছে। পূজা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সব মণ্ডপে পুলিশের সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকবে।

তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি প্রতিটি পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিজস্ব উদ্যোগে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগসহ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে পূজা উদযাপনে হিন্দু সম্প্রদায়ের সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার সালমান নুর আলম আরও বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা করা হলে কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সভায় প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সম্প্রীতি, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।

Wednesday, October 7

আনন্দের ফেরা হলো না, কফিনে ফিরছেন দুই প্রবাসী! গাছবাড়ীতে শোকের মাতম

আনন্দের ফেরা হলো না, কফিনে ফিরছেন দুই প্রবাসী! গাছবাড়ীতে শোকের মাতম


নিজস্ব প্রতিবেদক :

স্বপ্ন ছিল দীর্ঘ প্রবাসজীবনের অবসান ঘটিয়ে দেশে ফিরবেন। আপনজনদের সঙ্গে সময় কাটাবেন, মায়ের হাতের রান্না খাবেন, স্ত্রীর সঙ্গে গল্প করবেন, সন্তানদের বুকে জড়িয়ে ধরবেন। কারও স্বপ্ন ছিল ছেলেকে বিয়ে দিয়ে ঘরে নতুন বউ আনবেন, গড়বেন নতুন এক পারিবারিক বন্ধন। কিন্তু নির্মম নিয়তি কেড়ে নিয়েছে সেই সব স্বপ্ন।

জীবিত হয়ে নয়, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আগামীকাল কফিনবন্দী হয়ে দেশে ফিরছেন কানাইঘাটের গাছবাড়ী এলাকার দুই সৌদি প্রবাসী।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সৌদি আরবে কর্মরত দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের লামার তালুক গ্রামের করিম উদ্দিন ও খালিদ আহমদ দীর্ঘদিন পর ছুটিতে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। আপনজনদের কাছে ফেরার সেই প্রতীক্ষার মধ্যেই গত ৭ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তারা।

দুর্ঘটনার পর থেকে তাদের মরদেহ সৌদি আরবের একটি হাসপাতালের হিমঘরে রাখা ছিল। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর অবশেষে আগামীকাল ৮ অক্টোবর বৃহস্পতিবার তাদের মরদেহ দেশে আনা হচ্ছে।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে নিহত দুই প্রবাসীর মরদেহ সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। পরে বাদ আসর আকুনি মাদরাসা মাঠে তাদের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হবে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিহত আব্দুল করিমের ভাতিজা বোরহান উদ্দিন।

প্রবাসজীবনের কষ্ট শেষে আপনজনদের কাছে ফেরার যে স্বপ্ন নিয়ে তারা পথ চেয়েছিলেন, সেই ফেরা আর আগের মতো হলো না। যে ঘরে তাদের আগমনের অপেক্ষায় ছিল স্বজনদের চোখ, সেই ঘরেই এখন অপেক্ষা করছে নিথর দেহ।

দুই প্রবাসীর আকস্মিক মৃত্যুতে গাছবাড়ী এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের বাড়িতে চলছে আহাজারি। প্রিয়জনকে একবার দেখার অপেক্ষায় পরিবারের সদস্যদের চোখে এখন শুধু অশ্রু আর বুকভরা হাহাকার।




Monday, October 5

বীর মুক্তিযোদ্ধা কমর উদ্দিন চৌধুরীকে স্মরণ করে হাবিবের আবেগঘন স্মৃতিচারণ

বীর মুক্তিযোদ্ধা কমর উদ্দিন চৌধুরীকে স্মরণ করে হাবিবের আবেগঘন স্মৃতিচারণ


হাবিবুর রহমান:

কিছু মানুষ আমাদের জীবনে শুধু আত্মীয় হিসেবে থাকেন না; তাঁরা হয়ে ওঠেন আমাদের শৈশবের স্মৃতি, পারিবারিক গর্ব এবং জীবনের মূল্যবান এক একটি অধ্যায়। আমার তালই, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কমর উদ্দিন চৌধুরী, আমার কাছে তেমনই একজন মানুষ।

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার এই মানুষটি ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তাঁর মুক্তিযোদ্ধা আইডি নম্বর ০৭০৪০৯০২১৬। কানাইঘাটের মুক্তিযুদ্ধের একটি ঐতিহাসিক নথিতে তাঁকে ‘সি’ কোম্পানির কোয়ার্টার মাস্টার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে ক্যাপ্টেন রবের সঙ্গে তাঁর যুদ্ধ করার কথাও উল্লেখ রয়েছে।

ছোটবেলা থেকেই জানতাম, তালই একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তবে তখন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের গভীরতা বোঝার মতো বয়স হয়নি। শুধু দেখতাম, কানাইঘাটে মানুষ তাঁকে কতটা সম্মান করত।

১৯৯৫ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত কানাইঘাটে থাকার সময় নিজের চোখে দেখেছি—তিনি বাজারে গেলে মানুষ তাঁকে সম্মান করে সালাম দিত। বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তাঁকে মঞ্চে বিশেষ মর্যাদায় বসানো হতো। আমরা স্কুলের ছোট ছোট ছেলেমেয়ে কোনো অনুষ্ঠানে অংশ নিলে তিনি উৎসাহ দিতেন, পুরস্কার তুলে দিতেন, আমাদের সঙ্গে কথা বলতেন।

তখন হয়তো বুঝতাম না, কিন্তু আজ বুঝি—সেই সম্মানের পেছনে ছিল একজন মানুষের দীর্ঘ জীবনের ত্যাগ, সাহস এবং মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা গৌরবময় ইতিহাস।

আমার বাবার চাকরির সুবাদে ছোটবেলা থেকেই তাঁর সান্নিধ্য পেয়েছি। পরে ২০০১ সালে তাঁর মেজ ছেলের সঙ্গে আমার বড় বোনের বিয়ে হলে আমাদের পারিবারিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়। ফলে তালই আমার কাছে শুধু একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না, তিনি ছিলেন পরিবারের অত্যন্ত আপন একজন মানুষ।


২০০৭ সালের সেই ছবিগুলো:

এই ছবিগুলো ২০০৭ সালের। তখন তালই ক্যান্সারে আক্রান্ত। শরীর ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছিল। জীবনের শেষ সময়গুলো পার করছিলেন তিনি। কিন্তু অসুস্থ শরীরের বিপরীতে তাঁর মনের শক্তি ছিল অসাধারণ।

আমি তাঁর পাশে বসতাম। তিনি আমাকে মুক্তিযুদ্ধের গল্প শোনাতেন। কোথায় যুদ্ধ করেছেন, কীভাবে সেই কঠিন সময় পার করেছেন, কী ভয় ছিল, কীভাবে সেই ভয়কে জয় করেছেন, কী ধরনের দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে—সবকিছু অত্যন্ত মন দিয়ে শুনতাম।

আজ এত বছর পর সেই দিনগুলোর কথা মনে হলে উপলব্ধি করি, তখন আমি শুধু একজন আপন মানুষের গল্প শুনছিলাম না; আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার মুখে বাংলাদেশের জন্মের ইতিহাসের একটি অংশ শুনছিলাম।

আমার কাছে তখন একটি ছোট ক্যামেরা ছিল। সেই ক্যামেরায় তাঁর সঙ্গে কয়েকটি ছবি তুলে রেখেছিলাম। আজ এত বছর পর সেই ছবিগুলো যখন দেখি, তখন মনের ভেতর এক ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়।

মনে হয়, যদি আরেকবার তাঁর পাশে বসতে পারতাম! যদি আরেকবার বলতে পারতাম—‘তালই, মুক্তিযুদ্ধের গল্পটা আরেকটু বলেন।’

হয়তো আরও অনেক প্রশ্ন করতাম। আরও অনেক গল্প শুনতাম। আরও কিছু ছবি তুলে রাখতাম। কিন্তু সময় কাউকে দ্বিতীয়বার সেই সুযোগ দেয় না।

আত্মমর্যাদায় ছিলেন অনন্য:

তালইয়ের ব্যক্তিত্বের আরেকটি দিক আমাকে আজও গভীরভাবে নাড়া দেয়—তাঁর আত্মসম্মান।

ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় এসেও তিনি কারও ওপর বোঝা হয়ে থাকতে চাইতেন না। অসুস্থ শরীর নিয়েও নিজের মর্যাদা ও আত্মনির্ভরতার বিষয়ে তিনি ছিলেন অত্যন্ত সচেতন।

তখন হয়তো বিষয়টির গভীরতা পুরোপুরি বুঝিনি। আজ মনে হয়, একজন মানুষের চরিত্রের দৃঢ়তা সবচেয়ে ভালোভাবে প্রকাশ পায় তার কঠিন সময়েই। তালই সেই কঠিন সময়েও নিজের আত্মমর্যাদা ধরে রেখেছিলেন।


রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায়:

একসময় তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। কানাইঘাটে তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয় এবং দেওয়া হয় গার্ড অব অনার। তাঁর শেষ বিদায়ে রাষ্ট্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের অনেক গণ্যমান্য মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

সেই সময় সেখানে থাকতে পেরেছিলাম। আজও সেটি আমার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতি হয়ে আছে।

একজন মানুষকে তাঁর জীবনের শেষ যাত্রায় রাষ্ট্রীয় সম্মান পেতে দেখা শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়; একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাঁর অবদানের প্রতি রাষ্ট্র ও মানুষের শ্রদ্ধারও একটি প্রকাশ।


স্মৃতির পাতায় একজন মুক্তিযোদ্ধা:

সরকারি মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় তাঁর নাম রয়েছে। ঢাকার মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরেও তাঁর ছবি এবং ১৯৭১ সালের কিছু নথি সংরক্ষিত আছে।

তবে আমার কাছে তাঁর সবচেয়ে মূল্যবান স্মারক কোনো নথি নয়। আমার কাছে সবচেয়ে মূল্যবান হলো তাঁর সঙ্গে তোলা সেই কয়েকটি ছবি, তাঁর মুখে শোনা মুক্তিযুদ্ধের গল্প এবং তাঁর সঙ্গে কাটানো সময়গুলো।

আজ যখন সেই ছবিগুলো দেখি, তখন মনে হয়—একটি মানুষের জীবন কখনো শুধু তাঁর নিজের জীবন হয়ে থাকে না। তাঁর জীবন ছুঁয়ে যায় পরিবারকে, সমাজকে এবং কখনো কখনো একটি দেশের ইতিহাসকেও।

আমার তালই আমাকে শিখিয়েছেন, দেশকে ভালোবাসা শুধু কথার বিষয় নয়; মানুষের সম্মান অর্জন করতে হয় কাজের মাধ্যমে। কঠিন সময়েও নিজের আত্মমর্যাদা ধরে রাখতে হয়। আর জীবনের অভিজ্ঞতা ও ইতিহাসকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব।

তালই আজ আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু তিনি হারিয়ে যাননি।

তিনি আছেন আমাদের স্মৃতিতে, তাঁর পরিবারের ভালোবাসায়, মানুষের শ্রদ্ধায় এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা তাঁর পরিচয়ে।

আমার তালই, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কমর উদ্দিন চৌধুরী—আপনি আমার পরিবারের গর্ব, আমার শৈশবের একটি অমূল্য স্মৃতি এবং আমার কাছে মুক্তিযুদ্ধকে কাছ থেকে অনুভব করার একটি জীবন্ত অধ্যায়।

মানুষ একদিন চলে যায়। কিন্তু কিছু মানুষ চলে গিয়েও থেকে যান—ছবিতে, গল্পে, স্মৃতিতে এবং ইতিহাসে।

তালই, আপনাকে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করছি।

আল্লাহ আপনাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন।


লেখকের পরিচয়: হাবিবুর রহমান ,বাংলাদেশের লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের মানুষ। তিনি রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (RUET) থেকে পড়াশোনা করে উচ্চশিক্ষার জন্য জার্মানিতে যান এবং মিউনিখের Technical University of Munich (TUM)-এ মাস্টার্স করেন। বর্তমানে তিনি জার্মানিতে ইঞ্জিনিয়ারিং পেশায় যুক্ত।

২০১২ সালে মিউনিখে নাতালিয়ার সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরে তাঁদের বিয়ে হয়। তাঁদের দাম্পত্য জীবন ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের গল্প নিয়ে “Natalia & Habib  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। 

Sunday, October 4

কানাইঘাটে সরকারি দামে গ্যাস বিক্রিতে প্রশাসনের অভিযান, ব্যবসায়ীকে জরিমানা

কানাইঘাটে সরকারি দামে গ্যাস বিক্রিতে প্রশাসনের অভিযান, ব্যবসায়ীকে জরিমানা


নিজস্ব প্রতিবেদক :

সরকার নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি (গ্যাস) সিলিন্ডার বিক্রি নিশ্চিত করতে মাঠে নেমেছে কানাইঘাট উপজেলা প্রশাসন। এরই অংশ হিসেবে উপজেলার সড়কের বাজারে অভিযান চালিয়ে একটি গ্যাস সিলিন্ডারের দোকানকে জরিমানা করা হয়েছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুমাইয়া ফেরদৌস সড়কের বাজারে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির বিভিন্ন দোকান পরিদর্শন করেন।

এ সময় একটি দোকানে সরকার নির্ধারিত মূল্যের তালিকা প্রদর্শন না করায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ব্যবসায়ীকে ২ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া ফেরদৌস জানান, এখন থেকে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারসহ যেসব স্থানে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করা হয়, সেসব স্থানে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করা হবে। প্রতিটি ব্যবসায়ীকে সরকার নির্ধারিত মূল্যের তালিকা দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে।

তিনি বলেন, কোনো ব্যবসায়ী সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি, অবৈধভাবে মজুদ কিংবা মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ছাড়া সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি গ্যাস বিক্রির কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা উপজেলা প্রশাসনকে জানানোর জন্য ভোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

রোবট বানিয়ে মালয়েশিয়ায় বাজিমাত, স্বর্ণপদক জিতল কানাইঘাটের নাফিস

রোবট বানিয়ে মালয়েশিয়ায় বাজিমাত, স্বর্ণপদক জিতল কানাইঘাটের নাফিস


নিজস্ব প্রতিবেদক :

মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতা ‘World Invention Competition and Exhibition (WICE)’-এ স্বর্ণপদক অর্জন করেছেন সিলেটের কানাইঘাটের তরুণ আলফাজ আনাম নাফিস।

বিশ্বের ৪৮টিরও বেশি দেশের উদ্ভাবকদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় নাফিসের উদ্ভাবিত ‘Fire Fighting and Rescue Robot’ বিশেষ সাফল্য অর্জন করে। তার উদ্ভাবনটি প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে স্বর্ণপদক লাভ করেছে বলে জানা গেছে।

নাফিসের তৈরি রোবটটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আগুন শনাক্ত করতে এবং তা নিয়ন্ত্রণ ও নেভানোর কাজে সক্ষম। অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে মানুষের সরাসরি উপস্থিতি কমিয়ে জীবন ও সম্পদ রক্ষায় ভবিষ্যতে এ প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এমন সাফল্য অর্জন করায় কানাইঘাটসহ সিলেটের বিভিন্ন মহলে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নাফিসকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন অনেকে।

নিজের উদ্ভাবন ও অর্জন সম্পর্কে আলফাজ আনাম নাফিস বলেন, “আমি প্রমাণ করতে চেয়েছি বাংলাদেশও প্রযুক্তিতে এগিয়ে আছে। আমার ‘Fire Fighting and Rescue Robot’ মানুষের জীবন বাঁচানোর লক্ষ্যেই তৈরি। আমি চাই বাংলাদেশকে প্রযুক্তির বিশ্বে নেতৃত্ব দিতে।”

আলফাজ আনাম নাফিস সিলেট ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের একজন শিক্ষার্থী। আন্তর্জাতিক উদ্ভাবন প্রতিযোগিতায় তার এই সাফল্য দেশের তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের প্রতি আরও উৎসাহিত করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। নাফিসের গ্রামের বাড়ি কানাইঘাট পৌরসভার নয়াতালুক গ্রামে। 

Monday, September 28

কানাইঘাটে আইন-শৃঙ্খলা সভায় চোরাচালান-বিদ্যুৎ বিল নিয়ে তুমুল আলোচনা

কানাইঘাটে আইন-শৃঙ্খলা সভায় চোরাচালান-বিদ্যুৎ বিল নিয়ে তুমুল আলোচনা


নিজস্ব প্রতিবেদক :

সিলেটের কানাইঘাটে মাসিক আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় সীমান্তে চোরাচালান, লোভাছড়া পাথর কোয়ারি থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন ও পাথর চুরি, মাদক, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং পল্লীবিদ্যুতের অতিরিক্ত বিলসহ বিভিন্ন বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। সভায় চোরাচালান প্রতিরোধে চোরাকারবারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা, পাথর চুরি বন্ধ এবং অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমাইয়া ফেরদৌসের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সীমান্তবর্তী সুরইঘাটসহ বিভিন্ন এলাকা দিয়ে ভারত থেকে অবৈধভাবে পণ্যসামগ্রী আনা-নেওয়া বন্ধে চোরাকারবারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করার জন্য বিজিবিকে নির্দেশনা দেন ইউএনও।

এ সময় কমিটির সদস্য ও জনপ্রতিনিধিরা অভিযোগ করেন, বিজিবি চোরাচালানের পণ্য আটক করলেও অনেক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট চোরাকারবারীদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হচ্ছে না। ফলে ভারত থেকে অবৈধভাবে বিভিন্ন ধরনের পণ্যসামগ্রী আনা অব্যাহত রয়েছে। এমনকি চোরাকারবারীরা বিজিবি সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটাচ্ছে। আটক করা চোরাই পণ্যের মালিকদের পরিচয় শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হলে চোরাচালান অনেকাংশে কমে আসবে বলে মত দেন তারা।

সভায় সুরইঘাট বিজিবি ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত ক্যাম্প কমান্ডার জানান, গত আগস্ট মাসে এক কোটি টাকার বেশি ভারতীয় চোরাই পণ্য আটক করা হয়েছে। চলতি সেপ্টেম্বর মাসেও প্রায় এক কোটি টাকার পণ্যসামগ্রী জব্দ করা হয়েছে। তবে নানা তৎপরতা সত্ত্বেও চোরাচালান পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না বলে তিনি স্বীকার করেন।

এদিকে লোভাছড়া পাথর কোয়ারিতে জব্দ করা পাথর চুরি এবং অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন বন্ধে বিজিবি ও থানা পুলিশকে আরও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান ইউএনও সুমাইয়া ফেরদৌস। সীমান্তে চোরাচালান প্রতিরোধে চেকপোস্ট স্থাপন ও টাস্কফোর্সের অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি মাদক ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বাড়াতে প্রতিটি ইউনিয়ন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত সভা-সেমিনার আয়োজনের কথাও জানান তিনি।

সভায় কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে পুলিশ। চুরি ও অন্যান্য অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, তীব্র লোডশেডিংয়ের মধ্যেও গ্রাহকদের অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল দেওয়ার অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সভার সদস্যরা। তারা বলেন, পল্লীবিদ্যুৎ জোনাল অফিসে বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে গিয়েও প্রতিকার পাচ্ছেন না গ্রাহকরা। অনেক ক্ষেত্রে মিটার রিডাররা সরেজমিনে মিটার না দেখে মনগড়াভাবে রিডিং দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।

এ বিষয়ে সভায় উপস্থিত পল্লীবিদ্যুৎ জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপককে (ডিজিএম) অভিযোগগুলো সঠিকভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেন ইউএনও।

সভায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বিভিন্ন মতামত তুলে ধরে বক্তব্য দেন বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা। এ ছাড়া বক্তব্য দেন দিঘীরপাড় পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মুমিন চৌধুরী, সাতবাঁক ইউপি চেয়ারম্যান আবু তায়্যিব শামীম, কানাইঘাট সদর ইউপি চেয়ারম্যান প্রভাষক আফসর উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান লোকমান আহমদ, রাজাগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা শামছুল ইসলাম এবং কানাইঘাট প্রেসক্লাবের সভাপতি নিজাম উদ্দিনসহ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা।

Sunday, September 27

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান,গাজী বোরহান উদ্দিন সড়কের উন্নয়নকাজের উদ্বোধন করলেন মন্ত্রী

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান,গাজী বোরহান উদ্দিন সড়কের উন্নয়নকাজের উদ্বোধন করলেন মন্ত্রী


নিজস্ব প্রতিবেদক :

দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে শুরু হতে যাচ্ছে কানাইঘাটের বহুল প্রত্যাশিত গাজী বোরহান উদ্দিন সড়কের উন্নয়নকাজ। প্রায় ৪৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩০ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এমপি।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টায় কানাইঘাটের রাজাগঞ্জ ইউনিয়নের দাওয়াদারী গ্রামসংলগ্ন স্থানে এ উন্নয়নকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। এ সময় সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আবুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অর্থায়নে কানাইঘাট পৌরসভার নন্দিরাই বাইপাস পয়েন্ট থেকে রাজাগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণের কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ এ সড়কটির উন্নয়নের দাবি জানিয়ে আসছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিলেট জেলা ও কানাইঘাট উপজেলা বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, খেলাফত মজলিস ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, দেশের নানা সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে ব্যাপকভাবে সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারকাজ শুরু করেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭ বছরের শাসনামলে কানাইঘাটবাসীর প্রাণের দাবি জরাজীর্ণ গাজী বোরহান উদ্দিন সড়কের উন্নয়নে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর এ অঞ্চলের মানুষকে সড়কটির উন্নয়নের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, আজ তার বাস্তবায়ন শুরু হলো। সব দলের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে এ উন্নয়নকাজের শুভসূচনা করতে পেরে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।

সড়কের নির্মাণকাজের গুণগত মান বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে যথাযথভাবে কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনকে সার্বক্ষণিক তদারকি এবং রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও জনপ্রতিনিধিদের উন্নয়নকাজ বাস্তবায়নে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।

এ সময় কানাইঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া ফেরদৌসসহ এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রীকে সংবর্ধনা, রাজাগঞ্জের উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস সড়কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে রাজাগঞ্জ ইউনিয়নবাসীর উদ্যোগে স্থানীয় শাহী ঈদগাহ মাঠে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে এলাকাবাসী রাজাগঞ্জ ইউনিয়নের বিভিন্ন সমস্যা ও উন্নয়নসংক্রান্ত দাবি মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।

সংবর্ধিত প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অত্যন্ত আন্তরিক। ইতিমধ্যে সিলেটে হাজার হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। কানাইঘাট তথা রাজাগঞ্জ এলাকার উন্নয়নেও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক ও সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আবুল হাসান।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ও কানাইঘাট উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আশিক উদ্দিন চৌধুরী, জেলা বিএনপির সহসভাপতি মাহবুবুর রব চৌধুরী ফয়ছলসহ বিএনপি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।

Friday, September 25

কানাইঘাটে ১২ বছরের শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগ

কানাইঘাটে ১২ বছরের শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগ


নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেটের কানাইঘাটে ১২ বছরের এক শিশুকে নির্মাণাধীন টিনের ঘরে নিয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে এখলাছ আহমদ (৪৫) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা নুরুল হুদা বাবলু কানাইঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কানাইঘাট সদর ইউনিয়নের বীরদল ছোটফৌদ মৌজায় এখলাছ আহমদের নির্মাণাধীন বাড়ির একটি টিনের ঘরে গত বৃহস্পতিবার( ২৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগে শিশুটির বাবা উল্লেখ করেন, তাঁর ১২ বছর বয়সী ছেলে স্থানীয় বীরদল ইসলামী কিন্ডার গার্ডেনের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় সে কয়েকজন সহপাঠীর সঙ্গে মসজিদে মাগরিবের নামাজ পড়তে যাচ্ছিল। পথে এখলাছ আহমদ শিশুটিকে মুখ চেপে ধরে তাঁর নির্মাণাধীন বাড়ির একটি টিনের ঘরে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, শিশুটির সহপাঠীরা বিষয়টি টের পেয়ে সেখানে গিয়ে টিনের ঘরের দরজা খুলে শিশুটিকে দেখতে পায়। পরে খবর পেয়ে শিশুটির বাবা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিষয়টি জানতে পারেন। এ সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনাস্থলে ছিলেন। আশপাশের লোকজন জড়ো হতে থাকলে তিনি কৌশলে সেখান থেকে চলে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

শিশুটির বাবার অভিযোগ, এর আগেও একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কয়েকজন কিশোরকে ওই টিনের ঘরে নিয়ে গিয়ে অনৈতিক আচরণ ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ রয়েছে। ঘটনাটি জানার পর স্বজন ও স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করে সহযোগিতার মাধ্যমে তিনি কানাইঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানান।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত এখলাছ আহমদের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।



কানাইঘাটে ২২ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার

কানাইঘাটে ২২ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার


নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেটের কানাইঘাটে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ২২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ আবু বক্কর (২৪) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ১০টা ১০ মিনিটের দিকে কানাইঘাট পৌরসভার রায়গড় এলাকায় পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের পশ্চিম পাশে চতুলগামী পাকা সড়কে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার আবু বক্কর কানাইঘাট উপজেলার নিজ চাউরা উত্তর গ্রামের মইন উদ্দিনের ছেলে।

পুলিশ জানায়, কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আমিনুল ইসলামের দিকনির্দেশনায় এসআই  মো. সোহাগ চৌধুরী, এসআই  কবির হোসেনসহ সঙ্গীয় ফোর্স মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানের সময় আবু বক্করের কাছ থেকে ২২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার যুবকের বিরুদ্ধে কানাইঘাট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। পরে তাকে যথাযথ প্রক্রিয়ায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

কানাইঘাট থানা পুলিশ জানিয়েছে, মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।

Tuesday, September 22

কানাইঘাটে নাদিয়াতুল কুরআনের ফাইনাল ২৪ ডিসেম্বর

কানাইঘাটে নাদিয়াতুল কুরআনের ফাইনাল ২৪ ডিসেম্বর


নিজস্ব প্রতিবেদক :

নাদিয়াতুল কুরআন বাংলাদেশ কানাইঘাট উপজেলা শাখার ফাইনাল পরীক্ষা আগামী ২৪ ডিসেম্বর ২০২৬, বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ৮টা থেকে জামেয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম দারুল হাদিস কানাইঘাট মাদরাসায় এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

ফাইনাল পরীক্ষা আয়োজন উপলক্ষে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বাদ মাগরিব জামেয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম দারুল হাদিস কানাইঘাট মাদরাসার মিলনায়তনে উপজেলা শাখার এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা শাখার সভাপতি হযরত মাওলানা শামসুদ্দীন দুর্লভপুরীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক হযরত মাওলানা ক্বারী মাশুক আহমদ ধনপুরীর পরিচালনায় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে পরীক্ষার প্রস্তুতি, কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক আয়োজন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন ক্বারী মাওলানা তাজউদ্দীন মুক্তাপুরী ও হাফিজ মাওলানা শাহিন আহমদ দুর্লভপুরী।

এ সময় উপস্থিত আইম্মায়ে মাসাজিদের মধ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন ক্বারী মাওলানা খলিলুর রহমান ধনপুরী, হাফিজ মাওলানা মারুফ আহমদ কান্দেবপুরী, মাওলানা নজরুল ইসলাম গোয়াইনঘাটী, মাওলানা শরীফ আহমদ, মাওলানা সালমান উদ্দিন, মাওলানা সাদিকুর রহমান, মাওলানা আব্দুর রশীদ রাসেল, হাফিজ মাওলানা শাহরিয়ার আহমদ, মাওলানা শামীম আহমদ, মাওলানা কবির আহমদ, মাওলানা রেজাউল করিম, মাওলানা সালমান আহমদ, মাওলানা ফরিদ উদ্দিন, মাওলানা কাওছার আহমদ, মাওলানা দুলাল আহমদ, মাওলানা বিলাল আহমদ, মাওলানা মোস্তফা হোসাইন, মাওলানা আশিকুর রহমান, মাওলানা রিয়াজ উদ্দিন, মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান, মাওলানা মিযানুর রহমান, মাওলানা আতিকুর রহমান, মাওলানা আতাউর রহমান, মাওলানা মঈনুল ইসলাম ও ক্বারী মাওলানা হারুনুর রশীদ চতুলীসহ অনেকে।

বৈঠকে ব্যাপক আলোচনা ও পর্যালোচনার পর আগামী ২৪ ডিসেম্বর ফাইনাল পরীক্ষা আয়োজনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।

নাদিয়াতুল কুরআন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় এবার চারটি জামাতে শিক্ষার্থীরা অংশ নেবে। জামাতগুলো হলো— ৩০ পারা কুরআন শরিফ, ৫ পারা কুরআন শরিফ, আমপারা এবং নাদিয়া কায়দা।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ বছর চারটি জামাতে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ৫০০ জন ছাড়িয়ে যাবে। বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণকে সামনে রেখে পরীক্ষা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।