Previous
Next

সর্বশেষ


Monday, June 22

কাতারে নিহত ৫ প্রবাসীর স্বজনদের পাশে দাঁড়ালো কানাইঘাট উপজেলা প্রশাসন

কাতারে নিহত ৫ প্রবাসীর স্বজনদের পাশে দাঁড়ালো কানাইঘাট উপজেলা প্রশাসন


নিজস্ব প্রতিবেদক :

কাতারে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত কানাইঘাটের পাঁচ প্রবাসীর শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন। নিহতদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে আর্থিক সহায়তা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী প্রদান করেছে প্রশাসন।

সোমবার (২২ জুন) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহদী হাসান শাকিলের নির্দেশনায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাপস চক্রবর্তী তুষার নিহতদের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নগদ অর্থ ও খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন এবং শোকাহত স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

তাপস চক্রবর্তী তুষার বলেন, “আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতিনিধি হিসেবে আপনাদের পাশে এসেছি। কাতারের মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় পাঁচ প্রবাসীর মৃত্যুতে শুধু কানাইঘাট নয়, পুরো দেশ শোকাহত। নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে গুরুত্বসহকারে উপস্থাপন করেছেন।”

তিনি আরও বলেন, “এই কঠিন সময়ে উপজেলা প্রশাসন সবসময় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকবে এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।”

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঝিঙ্গাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু বকর এবং দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লোকমান আহমদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

উল্লেখ্য, গত রবিবার কাতারের শাহানিয়া এলাকায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত হন। তাদের মধ্যে পাঁচজনই সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার বাসিন্দা। নিহতরা হলেন ঝিঙ্গাবাড়ী ইউনিয়নের আমরপুর গ্রামের মৃত আব্দুন নূরের পুত্র জিবাল উদ্দিন, মাঝতালুক গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের পুত্র জসিম উদ্দিন, আগতালুক গ্রামের সেলিম আহমদের পুত্র মস্তাক আহমদ, একই গ্রামের মৃত মড়া মিয়ার পুত্র জুবায়ের আহমদ এবং দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের নিজ গাছবাড়ী গ্রামের বাহার উদ্দিনের পুত্র কাদের আহমদ।

প্রিয়জন হারানোর বেদনায় যখন পরিবারগুলো দিশেহারা, তখন উপজেলা প্রশাসনের এই মানবিক উদ্যোগ শোকাহত স্বজনদের কিছুটা হলেও সাহস ও সান্ত্বনা জুগিয়েছে।




কানাইঘাটে পুলিশের বিশেষ মহড়া, নিরাপত্তা জোরদার

কানাইঘাটে পুলিশের বিশেষ মহড়া, নিরাপত্তা জোরদার


নিজস্ব প্রতিবেদক :

সিলেটের কানাইঘাটে সম্ভাব্য নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের বিশেষ সতর্কতামূলক মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২২ জুন) বিকেলে উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান, চতুল বাজার ও সুরইঘাট বাজার এলাকায় এ মহড়া পরিচালনা করা হয়। বিকেল ৩টার দিকে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্যের অংশগ্রহণে কানাইঘাট থানা থেকে মহড়া শুরু হয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রদক্ষিণ করে।

মহড়ায় নেতৃত্ব দেন কানাইঘাট সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) সালমান নুর আলম, কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম এবং পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শহিদুর রহমান।

এ সময় এএসপি সালমান নুর আলম স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, কানাইঘাটের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখা এবং যেকোনো ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে পুলিশের বিশেষ মোবিলাইজেশন কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা চলমান থাকবে।

তিনি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বদা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যেকোনো ধরনের নাশকতার চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে।”

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২৩ জুন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সারা দেশে প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে কানাইঘাটেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

গত কয়েকদিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পুলিশের টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট স্থাপন করে যানবাহনে তল্লাশি কার্যক্রমও পরিচালনা করা হচ্ছে।

কানাইঘাট থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। নাশকতা কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিপন্থী কোনো কর্মকাণ্ড কাউকে করতে দেওয়া হবে না।”

তিনি আরও বলেন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের নজরদারি ও নিরাপত্তামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।



 

 


 

মরদেহের অপেক্ষায় কানাইঘাটে স্বজনদের আর্তনাদ

মরদেহের অপেক্ষায় কানাইঘাটে স্বজনদের আর্তনাদ


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক:

একগুচ্ছ স্বপ্ন, পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর প্রত্যাশা আর স্বজনদের জন্য সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে কাতারে পাড়ি জমিয়েছিলেন তারা। কেউ চার বছর ধরে প্রবাসজীবনের কষ্ট সয়ে আগামী মাসে দেশে ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন, কেউবা সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়তে দিন-রাত পরিশ্রম করছিলেন। কিন্তু সব স্বপ্ন থেমে গেল এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায়।

রোববার (২১ জুন) সকালে কাতারের আল শাহানিয়া এলাকায় ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনায় সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার পাঁচ প্রবাসীসহ ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন, ঝিঙ্গাবাড়ি ইউনিয়নের মাঝতালুক গ্রামের মোস্তাক আহমদ (৩০) ও জুবায়ের আহমদ (৩০), আগতালুক গ্রামের জসিম উদ্দিন (৩০), আমরপুর গ্রামের জিবাল আহমদ (৩৬) এবং দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের গাছবাড়ি নয়াগ্রামের কাদির আহমদ (২৪)। নিহত কাদির আহমদের স্বজনরা জানান, চার বছর আগে জীবিকার সন্ধানে কাতারে যান তিনি। আগামী মাসে ছুটিতে দেশে ফেরার কথা ছিল। পরিবারও তার ফেরার অপেক্ষায় ছিল। কিন্তু দেশে ফেরার বদলে এলো মৃত্যুর খবর। এখন তারা মরদেহের অপেক্ষায় আছেন।

অন্যদিকে তিন বছর আগে কাতারে পাড়ি জমান জসিম উদ্দিন। দুই সন্তানের এই জনকের উপার্জনের ওপরই নির্ভরশীল ছিল পুরো পরিবার। একইভাবে পাঁচ সন্তানের বাবা জিবাল আহমদও পরিবারের স্বচ্ছলতার আশায় প্রবাসজীবন বেছে নিয়েছিলেন। তাদের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারগুলোতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। জানা যায়, প্রতিদিনের মতো রোববার বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টায় কাজের উদ্দেশ্যে কাতারের দোহা থেকে একটি পিকআপে করে আল-শাহানিয়া শহরের দিকে যাচ্ছিলেন তারা। পথিমধ্যে আল শাহানিয়া শহরের সামাল এলাকায় পৌঁছালে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মূল সড়ক থেকে ছিটকে পড়ে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তারা নিহত হন। এসময় তাদের সঙ্গে থাকা এক ভারতীয় নাগরিকও প্রাণ হারান। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় মরদেহগুলো উদ্ধার করে কাতারের একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

নিহত কাদির আহমদের পিতা বাহার উদ্দিন জানান, চার বছর আগে পরিবারের স্বচ্ছলতা ফেরাতে তার ছেলে কাতারে গিয়েছিলেন। আগামী মাসে দেশে ফেরার কথা ছিল। নিহত জসিম উদ্দিনের স্ত্রী শাহিনা বেগম জানান, তিন বছর আগে জীবিকার তাগিদে তার স্বামী কাতারে যান। পুরো পরিবার তার আয়ের ওপর নির্ভরশীল ছিল। স্বামী মারা যাওয়ায় দুই সন্তানকে নিয়ে এখন কীভাবে জীবন যাপন করবেন, তা ভেবে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। কানাইঘাটের ঝিঙ্গাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবদুল লতিফ বলেন, নিহত পাঁচজনই হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান। তাদের মৃত্যুতে পরিবারগুলোতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রিয়জনদের মরদেহগুলো ফেরত চায় তারা। নিহতদের মরদেহ সরকারি খরচে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তার দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।

কাতারে নিহত ৫ প্রবাসীর লাশ দ্রুত দেশে আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে: প্রতিমন্ত্রী

কাতারে নিহত ৫ প্রবাসীর লাশ দ্রুত দেশে আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে: প্রতিমন্ত্রী


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক:

কাতারে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ জন বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক। একই সঙ্গে তাদের লাশ দ্রুত দেশে আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। 

রোববার এক শোকবার্তায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখা আমাদের এই রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমি নিহতদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। রোববার সকালে কাতারের শাহানিয়া এলাকায় এক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি পাঁচ নাগরিক নিহত হন। তারা সবাই সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার বাসিন্দা। 

নিহত প্রবাসীরা হলেন- গাছবাড়ি এলাকার কাদের আহমদ, আগতালুক গ্রামের জসিম উদ্দিন, আমরপুর গ্রামের জিবাল উদ্দিন, মাঝতালুক গ্রামের মস্তাক আহমদ এবং একই গ্রামের জুবায়ের আহমদ। প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় নিহত ৫ বাংলাদেশির মরদেহ দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে যথাযথ আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করতে কাতার দূতাবাসের শ্রম উইংকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এই সংকটাপন্ন মুহূর্তে সরকার নিহতের পরিবারের পাশে রয়েছে।

কাতারে নিহত পাঁচ প্রবাসীর মরদেহ দেশে আনার উদ্যোগ, সহায়তার আশ্বাস মন্ত্রীর

কাতারে নিহত পাঁচ প্রবাসীর মরদেহ দেশে আনার উদ্যোগ, সহায়তার আশ্বাস মন্ত্রীর


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক:

কাতারের শাহানিয়া এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার পাঁচ প্রবাসীর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। রোববার সকালে কাতারের শাহানিয়া এলাকায় কর্মস্থলে যাওয়ার পথে একটি গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়লে পাঁচ বাংলাদেশিসহ ছয়জন নিহত হন। নিহত পাঁচজনই সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর কাতারে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মরদেহগুলো দ্রুত দেশে পাঠানো এবং নিহতদের পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে দূতাবাস কাজ শুরু করেছে।


এক শোকবার্তায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা এসব প্রবাসী কর্মীর অকাল মৃত্যু অত্যন্ত মর্মান্তিক ও বেদনাদায়ক। মন্ত্রী নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করতে সরকার কাজ করছে।


নিহত ব্যক্তিরা হলেন কানাইঘাট উপজেলার দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের গাছবাড়ি এলাকার কাদির আহমদ, ঝিঙ্গাবাড়ী ইউনিয়নের আমরপুর গ্রামের জিবাল আহমদ, মাঝতালুক গ্রামের জসিম উদ্দিন, আগতালুক গ্রামের মস্তাক আহমদ এবং জুবায়ের আহমদ।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন ধরে তারা কাতারে কর্মরত ছিলেন। রোববার সকালে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে তাদের বহনকারী গাড়িটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই পাঁচ বাংলাদেশি ও গাড়িচালক নিহত হন। কানাইঘাটে নিহতদের বাড়িগুলোতে এখন শোকের মাতম চলছে।


এদিকে মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, কাতারস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস নিহতদের পরিচয় যাচাই, প্রয়োজনীয় কনস্যুলার কার্যক্রম সম্পন্ন এবং মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান সহায়তা কর্মসূচির আওতায় কী ধরনের সহযোগিতা দেওয়া যায়, সে বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

কাতারে পাঁচ প্রবাসীর মৃত্যুতে জমিয়ত সভাপতির শোক, মরদেহ দ্রুত দেশে ফেরানোর দাবি

কাতারে পাঁচ প্রবাসীর মৃত্যুতে জমিয়ত সভাপতির শোক, মরদেহ দ্রুত দেশে ফেরানোর দাবি


নিজস্ব প্রতিবেদক:

কাতারে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার পাঁচ প্রবাসী বাংলাদেশির মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি শাইখুল হাদিস মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক। তিনি নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন এবং মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।

সোমবার (২২ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, বিদেশের মাটিতে একসঙ্গে পাঁচজন বাংলাদেশি প্রবাসীর করুণ মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও বেদনাদায়ক। এই দুর্ঘটনায় নিহতদের স্বজনদের জীবনে যে অপূরণীয় ক্ষতি ও শোক নেমে এসেছে, তা ভাষায় প্রকাশের ঊর্ধ্বে।

তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদান অনস্বীকার্য। জীবিকার তাগিদে পরিবার-পরিজন ছেড়ে বিদেশে কর্মরত এসব প্রবাসীর মৃত্যু শুধু তাদের পরিবারের জন্য নয়, পুরো জাতির জন্যই গভীর বেদনার বিষয়।

জমিয়ত সভাপতি বাংলাদেশ সরকার, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং কাতারে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রতি নিহতদের মরদেহ দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। একইসঙ্গে দুর্ঘটনায় আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

শোকবার্তার শেষাংশে তিনি মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে নিহতদের মাগফিরাত, শহীদের মর্যাদা, কবরের প্রশস্ততা এবং শোকাহত পরিবারগুলোর জন্য ধৈর্য ও শক্তি কামনা করেন।

একজনের ছিল দেশে ফেরার স্বপ্ন, আরেকজনের অপেক্ষায় ছিল অনাগত সন্তান

একজনের ছিল দেশে ফেরার স্বপ্ন, আরেকজনের অপেক্ষায় ছিল অনাগত সন্তান


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক:

রিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে চার বছর আগে কাতার গিয়েছিলেন কাদির আহমদ (৩৩)। দরিদ্র ঘরের সন্তান কাদিরের আগামী মাসেই দেশে ফেরার কথা ছিল। সব প্রস্তুতিও প্রায় শেষ করে এনেছিলেন। কিন্তু তার আর জীবন্ত ফেরা হচ্ছে না। রোববার (২১ জুন) এক সড়ক দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছে তার জীবন, সেই সঙ্গে চূর্ণবিচূর্ণ করে দিয়েছে একটি পরিবারের সব স্বপ্ন। শুধু কাদির নন, এই দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছে সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার একই এলাকার আরও চারজন যুবকের প্রাণ। 

নিহতদের অধিকাংশই দরিদ্র পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তান হওয়ায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। নিহত কাদির উপজেলার দক্ষিণ বানীগ্রাম ইউনিয়নের নিজ গাছবাড়ি গ্রামের আব্দুন নুরের ছেলে। অন্য নিহতরা হলেন– ঝিঙ্গাবাড়ি ইউনিয়নের আগতালুক গ্রামের মরা মিয়ার ছেলে জুবের আহমদ (২৮), একই গ্রামের সেলিম আহমদের ছেলে মস্তাক আহমদ (২৭), আমরপুর গ্রামের আব্দুন নুরের ছেলে জিবাল আহমদ (৩৫) ও মাঝতালুক গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের ছেলে জসিম উদ্দিন (৩৮) মাত্র দুই মাস আগে ছুটি কাটিয়ে কাতার ফিরেছিলেন জুবের। বাড়িতে রেখে গিয়েছিলেন অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে। 

স্বামীর আকস্মিক মৃত্যুর খবরে অনাগত সন্তান নিয়ে এখন চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে তার। জুবেরের আরও একটি সন্তান রয়েছে। তাঁর বাবা মড়া মিয়াও ১২ বছর আগে সৌদি আরবে কাজ করতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। অন্যদিকে, নিহত জসিম উদ্দিনের বাবা-মা কেউ বেঁচে নেই। তিনি দুই সন্তানের জনক ছিলেন। উপার্জনক্ষম একমাত্র মানুষটিকে হারিয়ে এখন অথই সাগরে পড়েছে তাঁর পরিবার। 

স্থানীয় ঝিঙ্গাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু বকর জানান, নিহতদের প্রতিটি পরিবারই অত্যন্ত দরিদ্র। এই যুবকদের উপার্জনের ওপরই সংসারগুলো চলত। কাতারে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের তথ্যমতে, রোববার বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টায় কাজের উদ্দেশ্যে দোহা থেকে একটি প্রাইভেটকারে করে শাহানিয়া এলাকায় যাচ্ছিলেন এই পাঁচ বাংলাদেশি। পথে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মূল সড়ক থেকে ছিটকে পড়ে এবং দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই গাড়িতে থাকা পাঁচ বাংলাদেশি ও চালক নিহত হন। প্রাইভেটকারের চালক একজন ভারতীয় বলে জানা গেছে। সরকারি খরচে মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন নিহতদের স্বজনরা।

Sunday, June 21

কাতারে সড়কে ঝরলো কানাইঘাটের ৫ জনের প্রাণ

কাতারে সড়কে ঝরলো কানাইঘাটের ৫ জনের প্রাণ


নিজস্ব প্রতিবেদক :

কাতারে ভয়াবহ এক সড়ক দুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজনই সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার বাসিন্দা। রবিবার সকালে দেশটির শাহানিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন কানাইঘাট উপজেলার ঝিংগাবাড়ী ইউনিয়নের আমরপুর গ্রামের জিবাল আহমদ, মাঝতালুক গ্রামের মস্তাক আহমদ ও জুবায়ের আহমদ, আগতালুক গ্রামের জসিম উদ্দিন এবং পাশ্ববর্তী দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের নিজ গাছবাড়ি গ্রামের আব্দুল কাদির। অপর নিহত ব্যক্তি একজন ভারতীয় নাগরিক বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার সকালে তারা একটি পিকআপ ভ্যানে করে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন। পথে শাহানিয়া এলাকায় পৌঁছালে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই ছয়জনের মৃত্যু হয়।

নিহতদের মরদেহ স্থানীয় একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মাহমুদ হোসেন বলেন, দুপুর ১২টার দিকে আমরা এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর পাই। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল  ইসলাম বলেন, ‘আমরা জেনেছি কাতারের আল শাহানিয়ার সামাল এলাকায় ৫জন নিহত হয়েছেন। আমরা তাদের পরিবারের সাথে কথা বলেছি। ওইখানে সকল পক্রিয়া শেষে লাশ দেশে আসামাত্র পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তবে এখন পর্যন্ত বলা যাচ্ছে না কবে লাশ দেশে ফিরতে পারে।’

একই এলাকার পাঁচ প্রবাসীর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে কানাইঘাটজুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। 

কানাইঘাট সমিতি, ঢাকার নতুন কমিটি গঠন

কানাইঘাট সমিতি, ঢাকার নতুন কমিটি গঠন


নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজধানীতে বসবাসরত সিলেট জেলার কানাইঘাট উপজেলার বাসিন্দাদের ঐতিহ্যবাহী সংগঠন ‘কানাইঘাট সমিতি, ঢাকা’-এর বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম), গুণীজন সংবর্ধনা এবং নতুন কমিটি গঠন অনুষ্ঠান বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন ২০২৬) কারওয়ান বাজারস্থ জালালাবাদ ভবনের হলরুমে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। কানাইঘাট সমিতি, ঢাকার সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. খয়রুল ইসলাম চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মোহাম্মদ আবুল হাসান এবং সিলেট-৫ আসনের উন্নয়ন তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য মোসাম্মৎ শাম্মী আক্তার।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘কানাইঘাট অ্যাসোসিয়েশন ইউকে’-কে বিশেষ সম্মাননা ও সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি শিক্ষা, চিকিৎসা, সমাজসেবা, প্রশাসন ও অর্থনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের জন্য কানাইঘাটের ১০ জন কৃতী সন্তানকে সম্মাননা স্মারক ও গুণীজন সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

এজিএমের দ্বিতীয় পর্বে সমিতির নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়। এতে হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশনের সাবেক ডিজিএম সফিউল আলম বাবুল সভাপতি, জাতীয় নাক, কান ও গলা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. কাজী শাহ আলম সাধারণ সম্পাদক এবং ইমেজ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান বেলাল আহমেদ এমবিএ সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন।

নবগঠিত ২৭ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির নেতৃবৃন্দ কানাইঘাটবাসীর ঐক্য, উন্নয়ন ও সামাজিক কল্যাণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানটি কানাইঘাটবাসীর মিলনমেলায় পরিণত হয় এবং উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়।

Saturday, June 20

হারিছ চৌধুরীর জন্য সংসদে শোক প্রস্তাবের দাবি মেয়ে সামিরা চৌধুরীর

হারিছ চৌধুরীর জন্য সংসদে শোক প্রস্তাবের দাবি মেয়ে সামিরা চৌধুরীর


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক : 

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব-বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আবুল হারিছ চৌধুরীর জন্য জাতীয় সংসদে শোক প্রস্তাবের দাবি জানিয়েছেন তার মেয়ে ব্যারিস্টার সামিরা তানজীন চৌধুরী।

শনিবার (২০ জুন) রাজধানী ঢাকায় বসবাসরত সিলেটের কানাইঘাটবাসীর সামাজিক সংগঠন ‘কানাইঘাট সমিতি, ঢাকা’র উদ্যোগে আয়োজিত এক গুণিজন সংবর্ধনা ও বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) তিনি এ দাবি জানান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট-০৫ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আবুল হাসান।

সভায় গুণিজন সংবর্ধনা ক্রেস্ট গ্রহণ করে সামিরা তানজীন চৌধুরী আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তার বাবার জন্য জাতীয় সংসদে শোক প্রস্তাবের দাবি জানান। তিনি বলেন, আমার বাবা একজন জাতীয় নেতা ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন রাজনীতির মাধ্যমে দেশবাসীসহ সিলেটের উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন। পাশাপাশি বিএনপি‘র রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে হয়রানি করেছেন। তারপরেও তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাননি। দেশে থেকেই জাতীয়তাবাদী রাজনীতির ঝান্ডা বহন করেছেন।

সভায় গুণিজন সংবর্ধনা ক্রেস্ট গ্রহণ করছেন সামিরা তানজীন চৌধুরী। সভায় গুণিজন সংবর্ধনা ক্রেস্ট গ্রহণ করছেন সামিরা তানজীন চৌধুরী।

তিনি আরও বলেন, আমার বাবার দল গত ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যাপক ভোটের জয়লাভ করে সংখ্যা গরিষ্ঠতা অর্জন করে বিএনপি সরকার গঠন করেছে। এরইমধ্যে বিএনপি সরকার গঠনের পর জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শেষ হয়ে দ্বিতীয় অধিবেশনও প্রায় শেষের পথে। অথচ এখনও মরহুম আবুল হারিছ চৌধুরীর জন্য সংসদে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়নি! এটা তার কন্যা হিসেবে আমাকে পীড়া দেয়। সিলেটের কানাইঘাটবাসীর প্রাণের দাবি আমার বাবার নামে জাতীয় সংসদে শোক প্রস্তাব আনা হোক।

তিনি আরও বলেন, যে সংসদে বিভিন্ন মতের রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের মৃত্যুর পর শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে, সেই সংসদে বিএনপিরই সাবেক যুগ্ম মহাসচিব, প্রয়াত জাতীয় নেতা মরহুম হারিছ চৌধুরীর জন্য আজও শোক প্রস্তাব গ্রহণ না হওয়াটা দুঃখজনক। এমন একটি দাবি আজও উত্থাপন করতে হচ্ছে তার পরিবারের পক্ষ থেকে, এটাই আমাদের জন্য বেদনাদায়ক ও বিব্রতকর বাস্তবতা।

সভায় সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার প্রথম নারী ব্যারিস্টার হিসেবে সামিরা তানজীন চৌধুরী সম্মাননা ক্রেস্ট দেওয়া হয়।


কানাইঘাট সমিতি,ঢাকার এজিএম ও গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

কানাইঘাট সমিতি,ঢাকার এজিএম ও গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত


নিজস্ব প্রতিবেদক :

রাজধানীতে অবস্থানরত সিলেট জেলার কানাইঘাট উপজেলার বাসিন্দাদের ঐতিহ্যবাহী সংগঠন 'কানাইঘাট সমিতি, ঢাকা'-এর বার্ষিক সাধারণ সভা এবং গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শনিবার (২০ জুন ২০২৬) কারওয়ান বাজারস্থ জালালাবাদ ভবনের হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। কানাইঘাট সমিতি ঢাকার সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোঃ সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক মো: খয়রুল ইসলাম চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট-৫ আসনের এমপি মুফতি মোহাম্মদ আবুল হাসান এবং সিলেট-৫ আসনের উন্নয়ন তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত সংরক্ষিত আসনের এমপি মোসাম্মৎ শাম্মী আক্তার। 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আরিফুল হক চৌধুরী এলাকার উন্নয়ন ও প্রবাসীদের কল্যাণে জোরালো তাগিদ দেন। তিনি বলেন, কানাইঘাটের মানুষ দেশ-বিদেশে তাদের মেধা ও শ্রম দিয়ে সিলেটের সুনাম বৃদ্ধি করছেন। প্রবাসী ভাই-বোনদের প্রেরিত রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখছে। কানাইঘাটের প্রত্যন্ত অঞ্চলের যোগ্য তরুণদের দক্ষ করে গড়ে তুলে আরও বেশি বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। 

তিনি ঢাকার বুকে কানাইঘাটের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে এবং এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখায় কানাইঘাট সমিতির নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানান। 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শাম্মী আক্তার এমপি এবং মুফতি আবুল হাসান এমপি শিক্ষা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে কানাইঘাটকে আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তারা বলেন, দলমত নির্বিশেষে এলাকার কল্যাণে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সংগঠনের সামগ্রিক বিষয় এবং দাবি-দাওয়া সম্বলিত বক্তব্য রাখেন কানাইঘাট সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব মোঃ এহছানে এলাহী। তিনি কানাইঘাট উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নসহ এলাকার বিভিন্ন যৌক্তিক দাবি-দাওয়া অতিথিদের সামনে তুলে ধরেন।

বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘কানাইঘাট এসোসিয়েশন ইউকে’-কে এই অনুষ্ঠানে বিশেষ সম্মাননা ও সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। এছাড়া শিক্ষা, চিকিৎসা, সমাজসেবা, প্রশাসন ও অর্থনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের জন্য কানাইঘাটে জন্মগ্রহণকারী ১০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সমিতির পক্ষ থেকে সম্মাননা স্মারক ও গুণীজন সংবর্ধনা দেওয়া হয়। 

সভাপতির বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার মোঃ সিরাজুল ইসলাম বলেন, কানাইঘাট সমিতি ঢাকার বুকে কানাইঘাটের মানুষজনের শিকড়ের টান। কানাইঘাটের সামগ্রিক উন্নয়নেও এই সংগঠন ভূমিকা রাখতে চায়। 

অনুষ্ঠানে ঢাকার বিভিন্ন পেশায় কর্মরত কানাইঘাট উপজেলার অনেকে অংশ নেন। বার্ষিক সাধারণ সভা উপলক্ষে অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে নতুন কমিটি গঠিত হয়। সন্ধ্যার পর দ্বিতীয় পর্ব শুরু হবে। সেখানে মুক্ত আলোচনা ও কানাইঘাট সমিতির আর্থিক ও বার্ষিক প্রতিবেদন তুলে ধরা হবে।




Friday, June 19

কানাইঘাটে পুলিশের জালে ইয়াবা কারবারি, উদ্ধার ১৫০ পিস ইয়াবা

কানাইঘাটে পুলিশের জালে ইয়াবা কারবারি, উদ্ধার ১৫০ পিস ইয়াবা


নিজস্ব প্রতিবেদক :

কানাইঘাট থানা পুলিশের মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ১৫০ পিস ইয়াবাসহ এক মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি উপজেলার বড়চতুল ইউনিয়নের সরুফৌদ গ্রামের মৃত আব্দুল হকের ছেলে জসিম উদ্দিন (৪০)।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে কানাইঘাট পৌরসভার রামপুর তিন রাস্তার মোড়ে শাহবাগ-কানাইঘাট সড়কে একটি চেকপোস্ট পরিচালনা করে থানা পুলিশ। অভিযানে নেতৃত্ব দেন থানার এসআই শৈলস চন্দ্র দাস। এসময় এএসআই আরেফিন চৌধুরীসহ পুলিশের একটি দল বিভিন্ন যানবাহন ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি চালায়। তল্লাশির একপর্যায়ে একটি ব্যাটারিচালিত রিকশায় যাত্রীবেশে থাকা জসিম উদ্দিনের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তাকে তল্লাশি করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে পলিথিনে মোড়ানো ১৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে কানাইঘাট থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে জসিম উদ্দিন কানাইঘাট পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, “অপরাধ দমন, মাদক উদ্ধার, আসামি গ্রেফতার এবং এলাকার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মাদক ও চোরাচালানের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, মাদকমুক্ত ও নিরাপদ কানাইঘাট গড়ে তুলতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

কানাইঘাটে ৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার

কানাইঘাটে ৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার


নিজস্ব প্রতিবেদক ::

দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা ৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে কানাইঘাট থানা পুলিশ।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলামের নির্দেশনায় এএসআই জিয়াউল হকের নেতৃত্বে একদল পুলিশ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার বড়চতুল ইউনিয়নের রতনপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় রতনপুর গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে আলমগীর (আলম)কে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আলমগীর একাধিক মামলার সাজাপ্রাপ্ত ও দীর্ঘদিনের পলাতক আসামি। তার বিরুদ্ধে জৈন্তাপুর জিআর-১৮/২২ মামলায় ৫ বছরের এবং জৈন্তাপুর জিআর-১৬০/১৮ মামলায় ২ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ রয়েছে। মোট ৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত এই আসামি দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে আত্মগোপনে ছিলেন।

গ্রেফতারের পর শুক্রবার (১৯ জুন) তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করেছে কানাইঘাট থানা পুলিশ