কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক:
মানবদেহের সবচেয়ে বেশি সংবেদনশীল অঙ্গগুলোর মধ্যে দাঁত অন্যতম। আর দাঁতের নার্ভগুলোর সাথে মস্তিষ্কের যোগাযোগ রয়েছে। ফলে দাঁত কোনো সমস্যায় আক্রান্ত হলে তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় আমাদের মস্তিষ্কও আক্রান্ত হয়। তাই দাঁত থাকতেই দাঁতের মর্যাদা দেয়া উচিত।
পাঠকদের সুবিধার্থে আজকে কিছু খাবারের কথা উল্লেখ করা হলো যা দাঁতের জন্য ক্ষতিকর এবং তা অনেক রোগ সৃষ্টি করতে পারে। এখানে যেসব খাবারের কথা বলা হয়েছে এদের ক্ষতিকর কথা চিন্তা না করে আমরা প্রতিদিনই খাই।
কসমেটিক দন্ত চিকিৎসক ডা. মুকুল ডাবোলকার বলেন, কিছুর খাবার দাঁতের এনামেল ক্ষয় করে যা গরম, ঠাণ্ডা, মিষ্টি, টকের অনুভূতি বাড়িয়ে দেয়। অবশ্য নির্দিষ্ট কিছু টুথপেস্ট আছে যা আপনার সংবেদনশীলতা রোধ করতে পারে।
মূলকথা হচ্ছে, আমাদের দাঁত একবার যদি নষ্ট হয়ে যায় তাহলে কোনো চিকিৎসা বা ওষুধ পূর্বের সুস্থ অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে পারে না।
নান্দনিক দন্ত চিকিৎসক ডা. কারিশমা জারাদি বলেন, এই ধরনের খাবার খাওয়া বন্ধ করা সম্ভব নয়। তবে উচিত হবে, ভালো করে দাঁত ব্রাশ করা এবং খাওয়ার পর পানি দিয়ে গড়গড়া করা। এক্ষেত্রে দাঁতের মাঝখানের আটকে থাকা খাদ্যকণা পরিষ্কার করার জন্য ডেন্টাল ফ্লস ব্যবহার করা উচিত। নিয়মিত দন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে দাঁতের সমস্যা থেকে আগেই সতর্ক থাকা সম্ভব।
ডা. মুকুল ডাবোলকার আরও বলেন, দাঁত রক্ষা করার প্রধান শর্ত হচ্ছে, যতটুকু সম্ভব চিনি খাওয়া থেকে বিরত থাকা।
ক্যান্ডি, আঠালো মিঠাই, মিষ্টি: শক্ত ক্যান্ডির অংশ দাঁতের পৃষ্ঠে আটকে থাকে। দীর্ঘক্ষণ সময় লেগে যায় এটি পরিষ্কার হতে। যা দাঁতের জন্য খুবই ক্ষতিকর।
ডা. ডাবোলকার সতর্ক করে বলেন, শক্ত মিষ্টিজাতীয় খাবার খাওয়ার সময় দাঁতে ফাটল দেখা দিতে পারে।
অ্যাসিডিক খাবার: ডা. ডাবোলকার বলেন, লেবুর টুকরো দিয়ে দাঁত সাদা পরিষ্কার করা একটি ভুল ধারণা। এটি দাঁতের ক্ষতি করতে পারে। কমলা, লেবু, টমেটো, জাম্বুরা খাওয়ার পর ভালোভাবে গড়গড়া করা উচিত।
চুষ্য ট্যাবলেট: চুষে খাওয়া হয় এমন ভিটামিন ট্যাবলেট অ্যাসিড তৈরি করে। এসব অ্যাসিড দাঁতের সাথে লেগে থেকে ক্ষতি করে। এমনকি স্বাস্থ্যকর পানীয় এবং ভিটামিন দাঁতের সুসাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
শ্বেতসার খাবার: ক্ষতিকর প্রভাব না জেনেই আমরা অনেক জাঙ্ক এবং শ্বেতসার জাতীয় খাবার খাই। পটেটো চিপস, ব্রেড, পিজা, পাস্তা এবং বার্গারের খাদ্যকণা খুব সহজেই দাঁতের ফাঁকে আশ্রয় নেয়। যা দুই দাঁতের মধ্যে ফাটল তৈরি করতে পারে।
সোডা, স্পোর্টস পানীয়: চিনি বা শর্করাযুক্ত পানীয়, স্পোর্টস পানীয় যারা নিয়মিত খান তা দাঁতের জন্য বিশেষ ক্ষতিকর।
ডা. জারাদি বলেন, শিশু এবং কিশোর-কিশোরীদের চিনি গ্রহণের অন্যতম উৎস হচ্ছে কোমল পানীয়। চিনি ছাড়াও কোমল পানীয়তে ফসফরাস এবং সাইট্রিক অ্যাসিড রয়েছে যা দাঁতের এনামেল নষ্ট করে।
শুকনো ফলমূল: প্রক্রিয়াজাত ফল না খেয়ে অনেকে শুকনো ফল খান। শুকনো ফলের চিনি এবং আঠালো অংশ দাঁতের জন্য ক্ষতিকর। কিশমিশ, খুবানি (অ্যাপ্রিকটস), আনজির, গুমি ক্যান্ডি(ফল দিয়ে তৈরি) ইত্যাদি চিনিযুক্ত খাবারের কারণে দাঁতে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া সৃষ্টি হয় এবং তা দাঁতের এনামেলের ক্ষয় করে।
অ্যালকোহল এবং ওয়াইন: মুখনিঃসৃত লালা খাদ্যকণা পরিষ্কার এবং অ্যাসিড জাতীয় খাবার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে। অ্যালকোহল বা ওয়াইন মুখে লালা উৎপাদনে বাধা প্রদান করে। যা দাঁতের মাড়ির রোগ এবং ক্যানসার তৈরি করতে পারে।
Monday, December 14
এ সম্পর্কিত আরও খবর
অভাব মোচনে নবীজি যে নির্দেশনা দিয়েছেন মহান আল্লাহ মাঝে মাঝে মানুষকে পরীক্ষা করার জন্য অভাব-অনটন, বিপদ-আপদ দান করেন। নবীজি (সা.) ও স
হার্ট সুস্থ-সবল রাখে বেলপাতা, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেও সেরা পুষ্টিকর ফল হিসেবে বেল পছন্দ করেন অনেকেই। তীব্র গরমে এক গ্লাস বেলের শরবত যে শরীরে প্রশান্তি এ
জেনে নিন নেটওয়ার্কিং এর আদ্যোপান্ত বর্তমান পৃথিবীতে যে পেশাগুলো মানুষের পছন্দের তালিকার শীর্ষস্থান দখল করে রয়েছে সেগুলোর মধ্যে নেট
শীত আসার আগেই চুল পড়া কমান ঘরোয়া টোটকায় শীতের সময়ে চুল পড়ার পরিমাণ বাড়ে; যা অস্বাভাবিক কিছু নয়। কারণ এই সময় আবহাওয়া অনেকটা
কানাইঘাটের সবজি চীনের রাষ্ট্রীয় মিডিয়ায়নিজস্ব প্রতিবেদক:কানাইঘাটে সুরমা নদীর তীরে অস্থায়ী সবজির বাজারের ছবি ছড়িয়ে পড়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্
জুমার আদব রক্ষাকারীর যে ১০ দিনের গুনাহ মাফ হয় জুমার দিন; তথা শুক্রবারের দিন জোহরের নামাজের পরিবর্তে জুমার নামাজকে ফরজ করা হয়েছে। যা আমাদের
0 comments:
পাঠকের মতামতের জন্য কানাইঘাট নিউজ কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়