Wednesday, April 15

সিলেট জেলা প্রশাসকের স্ত্রীর গাড়িতে মাদক চোরাচালান!


সিলেট: সিলেট জেলা প্রশাসকের(ডিসি) স্ত্রীর ব্যবহৃত সরকারি গাড়িতে করে মাদক চোরাচালানের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গত এক বছর ধরেই এই গাড়িটি ব্যবহার করে চলছিল এই অপকর্মটি। গতকাল সন্ধ্যায় ডিসির স্ত্রীকে বাসায় নামিয়ে দিয়েই ঐ গাড়িতে করে পাচার করা হচ্ছিল ৩৭৫ বোতল ফেনসিডিল ও জেনোসিডিল। মাদক সামগ্রীর সঙ্গে আটক করা হয় গাড়ি চালক রুমন মিয়াকেও(২৭)। গাড়ি চালকের বরাত দিয়ে পরে র‌্যাব জানিয়েছে, মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জেলা প্রশাসকের স্ত্রী জড়িত। জিজ্ঞাসাবাদে গাড়ি চালক স্বীকার করেছে যে, জেলা প্রশাসকের স্ত্রীর এই গাড়ি ব্যবহার করে গত এক বছর ধরেই মাদক চোরাচালান করা হচ্ছিল। তবে এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, খবরটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি বলেন, ঐ গাড়ি আমার স্ত্রী ব্যবহার করে না। ওটা সরকারি গাড়ি। তাছাড়া আমার স্ত্রী ঢাকায় থাকেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গতকালও আমার স্ত্রী আমার সঙ্গে ছিলেন এবং তিনি গতকালও এ গাড়ি ব্যবহার করেনি। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নগরীর শিবগঞ্জ শাকিল কমিউনিটি সেন্টারের সামনে থেকে সিলেট জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলামের স্ত্রীর ব্যাবহৃত সরকারী গাড়ি (সিলেট-ঘ ১১-০২৫৭) থেকে ৩৭৫ বোতল ফেনসিডিল ও জেনোসিডিলসহ গাড়ি চালক রুমন মিয়াকে (২৭) আটক করে র‌্যাব। সে হবিগঞ্জ জেলার শাহজীবাজারের ইব্রাহিম মিয়ার ছেলে। বর্তমানে সে সার্কিট হাউসের একটি কক্ষে রয়েছে। আটকের পর সে র‌্যাবকে জানায়, প্রায় ২বছর থেকে সে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের গাড়ি চালিয়ে আসছে। এছাড়াও সে এক বছর থেকে ফেনসিডিলের ব্যবসা করে আসছে নগরীতে। মঙ্গলবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের স্ত্রীর ডিউটি শেষে শিবগঞ্জ সেনপাড়া এলাকার একটি গ্যারেজ মালিকের অর্ডার অনুযায়ী সে এগুলো নিয়ে আসছিল। এইসব জেনোসিডিল ও ফেনসিডিল সিলেট সার্কিট হাউসের গাড়ির গ্যারেজের পাশে রাখা ছিল। এগুলো জকিগঞ্জ থেকে নিয়ে আসা হয়। রাত সাড়ে ১১টায় র‌্যাব-৯ এর কার্যালয়ে উদ্ধারকৃত ফেন্সিডিল ও চালককে নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৯ এর ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর হুমাইন কবীর জানান, দীর্ঘদিন থেকে সরকারি গাড়ি দিয়ে একটি চক্র ফেন্সিডিলের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে নগরীতে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাবের একটি দল নগরীর শিবগঞ্জ এলাকার শাকিল কমিউনিটি সেন্টারের সামনে চেকপোস্ট বসায়। এসময় জেলা প্রশাসকের স্ত্রীর গাড়ি চালক সরকারি গাড়ি নিয়ে প্রবেশ করা মাত্রই র‌্যাব গাড়িটিকে আটক করে। পরে গাড়িটি তল্লাশি চালিয়ে র‌্যাব ডারবি সিগারেটের কাটুনে রাখা ১৮২ বোতল জেনোসেডিল ও ১৯৩ বোতল ফেন্সিডিলসহ চালক চালক রুমন মিয়া (২৭) কে আটক করে। স্ত্রীর বিরুদ্ধে গাড়ি চালকের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলাম বলেন, গাড়ি চালক এক্ষেত্রে অন্যায় করেছে। একজন অপরাধী নিজেকে বাঁচার জন্য অনেক কথাই বলে থাকে। তবে আমার স্ত্রী কোনো সরকারি গাড়ি ব্যবহার করে না। গতকালতো নয়ই। তার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এব্যাপারে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারে সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এরই মধ্যে গাড়ি চালকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এছাড়া এঘটনার আর কেউ জড়িত থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শেয়ার করুন

0 comments:

পাঠকের মতামতের জন্য কানাইঘাট নিউজ কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়