Thursday, August 15

লাগামছাড়া পেঁয়াজের দাম

:: এম ইদ্রিস আলী ::
ঈদের পর থেকেই পেঁয়াজের দাম অনেকটা লাগামছাড়া হয়ে গেছে। বাজারে দেশি ও ভারতীয় দুই ধরনের পেঁয়াজের কেজিই এখন ৬৫ থেকে ৭০ টাকা। এক সপ্তাহ আগেও দেশি পেঁয়াজ ৪৮ থেকে ৫২ এবং ভারতীয় পেঁয়াজ ৪৪ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হতো।
আমদানিকারক ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদের পর ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। দেশটিতে কয়েক দিন ধরে পেঁয়াজের দাম বাড়ায় আমদানিকারকেরা বেশি দামে পেঁয়াজ আমদানি করছেন না। তাই সরবরাহের সংকট দেখা দিয়েছে। এতে দামও বেড়েছে। আমদানির্ভরতার এ সুযোগটা নিচ্ছেন আমদানিকারক ও মধ্যস্বত্বভোগীরা।
গত ফেব্রুয়ারিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে দেওয়া বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের এক প্রতিবেদনেও আমদানি নির্ভরতাকেই পেঁয়াজের সে সময়ের মূল্যবৃদ্ধির বড় কারণ বলে উল্লেখ করা হয়।
বাজারচিত্র: সিলেটে বিভাগের অন্যতম বাণিজ্যিক শহর মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের পাইকারী বাজারে বৃহস্পতিবার বেশির ভাগ বিক্রেতাই দেশি ও ভারতীয় উভয় পেঁয়াজের দাম হাঁকেন ৭০ টাকা কেজি। তবে গুটি কয়েক বিক্রেতাকে ৬৫ টাকা দরে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি করতে দেখা গেছে। আর বাজারে কেবল হাতে গোনা কয়েকজনের কাছেই ভারতীয় পেঁয়াজ দেখা গেছে।
পাইকারী বিক্রেতা ইলিয়াছ মিয়া বলেন, “সরবরাহ কম। তাই ইন্ডিয়ান পেঁয়াজ বাজারে নাই। ইন্ডিয়ানটা না এলে দেশি পেঁয়াজের দাম কমবে না।”
রাজধানীতে পেঁয়াজের বড় পাইকারি বাজার শ্যামবাজারের আমদানিকারকেরা জানান, তাঁদের কাছে এখন ভারতীয় পেঁয়াজের মজুত খুবই কম। দেশি ও ভারতীয় দুই ধরনের পেঁয়াজই এখন পাইকারিতে ৬০ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
শ্যামবাজারের আমদানিকারক পপুলার বাণিজ্যালয়ের স্বত্বাধিকারী রতন সাহা মুঠোফোনে বলেন, “ভারতে দাম বাড়তে থাকা আর ঈদের চাহিদা পূরণ হয়ে যাওয়ায় রোজার শেষ দিকে পেঁয়াজ আমদানি কমে যায়। ভারতে এখন দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। তবে ভারতের বেঙ্গালুরুতে আগামী ১৫-২০ দিনের মধ্যে পেঁয়াজের একটি ফলন উঠবে। সেই পেঁয়াজ বাজারে এলে দেশটিতে দাম কমতে পারে। দেশি যে পেঁয়াজটা এখন বিক্রি হচ্ছে, তা ‘হালি পেয়াজ’ নামে পরিচিত। এই পেঁয়াজটা চৈত্রের শেষ এবং বৈশাখের শুরুতে বাজারে আসে।” রতন রায় আরও বলেন, আরেকটি নতুন মৌসুম আসতে সপ্তাহ দুয়েক লাগবে। তখন আমদানি বেড়ে গেলে বাংলাদেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম পড়ে যাবে।
ভারতের একাধিক গণমাধ্যমের খবর থেকে জানা যায়, দেশটিতে নাসিকের লাসালগাঁওয়ে (এশিয়ার পেঁয়াজের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার) তিন দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের কেজি ২৫ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি কেজি পেঁয়াজ বুধবার খুচরা বিক্রি হয়েছে ৮০ রুপিতে।
খরার কারণে ভারতের নাসিকে এবার পেঁয়াজের উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর কর্নাটকসহ পেঁয়াজ উৎপাদনকারী অন্যান্য এলাকার উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয় অতিবৃষ্টিতে।---পরিবর্তন

শেয়ার করুন

0 comments:

পাঠকের মতামতের জন্য কানাইঘাট নিউজ কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়